বাংলাদেশ

লাঠিতে ভর দিয়ে জীবিকার লড়াই, প্রতারণায় শেষ সম্বলও খোয়ালেন হযরত আলী

বাংলা টিভি ডেস্ক: স্ত্রী ও মেয়েকে ক্যানসারের কাছে হারানোর পর জীবনের শেষ সময়ে এসে বয়স, অসুস্থতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছিলেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার হযরত আলী (৭০)। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে লাঠিতে ভর দিয়ে প্রতিদিন মিশুক (অটো) চালিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। কিন্তু সেই শেষ সম্বলটিও প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ে গেছে একটি চক্র।

হযরত আলীর বাড়ি মুক্তাগাছা উপজেলার কালিবাড়ী এলাকার রামচানপুর গ্রামে। তিনি মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও কারও ওপর নির্ভর না করে শ্রমের বিনিময়ে এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসারের খরচ চালিয়ে আসছিলেন তিনি।

রোববার (১৯ জুলাই) প্রতিদিনের মতো মিশুক নিয়ে জীবিকার সন্ধানে বের হন হযরত আলী। বেলা ১১টার দিকে কালিবাড়ী থেকে দুই ব্যক্তি তার মিশুক ভাড়া করে মধুপুর পৌর শহরের দিকে যান। হাটখোলা-বোয়ালী সেতু এলাকায় পৌঁছালে মিশুকে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে যন্ত্রাংশ কিনতে তিনি কাছের একটি দোকানে যান।

হাঁটতে কষ্ট হওয়া বৃদ্ধ হযরত আলীকে সহানুভূতি দেখিয়ে দুই যাত্রীর একজন হাত ধরে রাস্তা পার করে দেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি, এটি ছিল প্রতারণার কৌশল। যন্ত্রাংশ কিনে সেতুর কাছে ফিরে এসে তিনি দেখেন, তার মিশুক এবং ওই দুই ব্যক্তি—কেউই নেই।

মুহূর্তেই অসহায় হয়ে পড়েন বৃদ্ধ হযরত আলী। লাঠিতে ভর দিয়ে সেতুর পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার ভাষ্য, এই মিশুকই ছিল তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। এখন কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, হযরত আলীর কাছে কোনো মোবাইল ফোন নেই। এমনকি পরিবারের কারও নম্বরও তার মুখস্থ নেই। ফলে ঘটনার পর দ্রুত স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয়রা তাকে বাড়ি ফেরার ভাড়া ও কিছু আর্থিক সহায়তা দেন।

স্থানীয়দের উদ্যোগে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে মিশুক নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তারা জানান, অসুস্থ ও বৃদ্ধ একজন মানুষের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক।

স্থানীয়রা মিশুকটি উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হযরত আলীর জীবিকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button