চাঁদপুরে অটোরিকশার চাপায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী নিহত

চাঁদপুর (ডিজিটাল) প্রতিনিধি: চালক ইঞ্জিন চালু রেখে নিচে নেমে যাওয়ার পর এক শিশুর অসতর্ক হাতের ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশার চাপায় প্রাণ হারিয়েছে হাফসা আক্তার (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী বাজারে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হাফসা চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের চাঁন্দল গ্রামের পদ্মারপাড় এলাকার ব্যবসায়ী মো. হামিদের বড় মেয়ে। সে চিতোষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে হাফসা চিতোষী বাজারে তার বাবার দোকানে একটি চেয়ারে বসে ছিল। এ সময় এক অটোরিকশা চালক গাড়ির ইঞ্জিন চালু অবস্থায় রেখেই নিচে নেমে যান। ঠিক তখনই গাড়িতে থাকা এক যাত্রীর সঙ্গে আসা একটি শিশু খেলার ছলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণে (অ্যাক্সিলারেটর/হ্যান্ডেল) হাত দেয়। এতে অটোরিকশাটি হঠাৎ সজোরে সামনে এগিয়ে গিয়ে সরাসরি হামিদের দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় হাফসা অটোরিকশার নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা রক্তাক্ত অবস্থায় হাফসাকে দ্রুত উদ্ধার করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
ক্ষুব্ধ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, চালক যদি ইঞ্জিন চালু রেখে গাড়ি ফেলে না যেতেন, তবে এই নিষ্পাপ শিশুটিকে এভাবে মরতে হতো না। এটি দুর্ঘটনা নয়, চালকের চরম গাফিলতি ও হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার পরপরই অটোরিকশাটি রেখে চালক কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। উত্তেজিত জনতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চালককে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ফুটফুটে শিশু হাফসার এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় চিতোষী বাজারের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এই অবহেলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।



