আন্তর্জাতিকইন্ডিয়া

দিল্লিতে বদলে গেছে আন্দোলনের চেহারা, জেন-জিদের প্রধান অস্ত্র এখন মিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে প্রচলিত স্লোগানের পাশাপাশি নতুন মাত্রা যোগ করেছে মিম, রিলস, ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার ও পপ কালচার। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনকারীরা হাস্যরস ও ব্যঙ্গকে সরকারের সমালোচনার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলা এই আন্দোলনস্থলে দেখা যাচ্ছে নানা ধরনের সৃজনশীল প্রতিবাদ। কোথাও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার, কোথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাইরাল মিম—সব মিলিয়ে প্রতিবাদের ভাষায় এসেছে নতুনত্ব।

আন্দোলনকারী পি হোসেন খান নিজেকে একজন ‘মিমার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, যখন শিক্ষার্থীদের দাবি গুরুত্ব পাচ্ছে না, তখন ব্যঙ্গ ও হাস্যরস মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি উপায় হতে পারে। তার তৈরি একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘আমার সাবেক প্রেমিকা এবং এই সরকার, দুজনেই হৃদয়হীন।’

যন্তর মন্তরের বিভিন্ন পোস্টারে সরকারের নীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কটাক্ষ দেখা যাচ্ছে। একটি পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘কেউ আমাকে টাকা দেয় না, আমি বিনামূল্যে এই সরকারকে ঘৃণা করি।’ এর মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অর্থায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যঙ্গাত্মক জবাব দেওয়া হয়েছে। আরেকটি পোস্টারে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে অন্তর্মুখীরাও ঘর ছেড়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে বলিউড ও পৌরাণিক কাহিনির জনপ্রিয় উপাদানও ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘তু ঝুঠি ম্যায় মক্কার’ সিনেমার পোস্টারের আদলে তৈরি ব্যঙ্গচিত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাভারতের কৃষ্ণ-অর্জুন সংলাপ ব্যবহার করেও তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ পোস্টার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ‘মেলোডি’ প্রসঙ্গও জায়গা পেয়েছে আন্দোলনের পোস্টারে। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা হয়েছে, ‘মেলোডি খাও, দেশ খেয়ো না।’ এছাড়া পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের বিভিন্ন ভিডিও গেমের আদলে সম্পাদনা করে রিল তৈরি করা হয়েছে, যা অনলাইনে ব্যাপক ছড়িয়েছে।

আন্দোলনকারীদের মতে, অনলাইনের এই সৃজনশীল প্রতিবাদ আন্দোলনের বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। দিল্লি কলেজ অব আর্টের শিক্ষার্থী সানা বলেন, পরীক্ষা সামনে থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে আন্দোলনে অংশ নেওয়া জরুরি মনে করেছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে শুধু মিছিল বা স্লোগান নয়, ডিজিটাল কনটেন্ট, মিম ও ব্যঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যন্তর মন্তরের নিট আন্দোলন সেই পরিবর্তিত প্রতিবাদ সংস্কৃতিরই একটি উদাহরণ।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button