দৌলতপুরে পদ্মার ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে এমপি বাচ্চু মোল্লা

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। ভাঙনের তীব্রতা দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে অতিরিক্ত ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানান।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কোলদিয়াড় এলাকায় ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় তিনি জাতীয় সংসদে একাধিকবার পদ্মা নদীর স্থায়ী নদী শাসনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এরই মধ্যে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সেই অর্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে কাজ করছে। তবে ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নদীপাড়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পদ্মা নদীর স্থায়ী নদী শাসন ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আবারও উত্থাপন করবেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পদ্মা, মাথাভাঙ্গা ও হিসনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড়, কোলদিয়াড়, ফয়জুল্লাহপুর ও হাটখোলাপাড়াসহ অন্তত চারটি স্থানে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
গত ১৫ থেকে ২০ দিনে শতাধিক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল হারিয়ে কয়েকশ কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আবাদি জমির পাশাপাশি বসতভিটাও হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অতিরিক্ত জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তাই সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের পরিবর্তে স্থায়ী নদীশাসন ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান তারা।



