বাংলাদেশ

নাটোরে ভুল অস্ত্রোপচারে কৃষকের মৃত্যু, পঙ্গু হওয়ার পথে তিন জন

বাংলা টিভি ডেস্ক: নাটোরের গুরুদাসপুরে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অভিযোগ, ওই চিকিৎসকের অস্ত্রোপচারের পর একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন রোগী গুরুতর জটিলতায় ভুগছেন। শনিবার (২৬ জুলাই) অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা।

অভিযোগের তীর গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তার অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও পচন দেখা দিয়েছে। এতে কেউ কেউ পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

গুরুদাসপুর পৌর এলাকার চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়ার বাসিন্দা নাজিমুদ্দিন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ডান পায়ের হাঁটুতে আঘাত পান। পরে বনপাড়া জাহেদা ক্লিনিকে চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করান তিনি। তার অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের কয়েক দিন পর থেকেই ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বের হতে শুরু করে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। বর্তমানে তিনি অন্য চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বিকে দাম বলেন, নাজিমুদ্দিনের অস্ত্রোপচারে কিছু ত্রুটি ছিল এবং বর্তমানে তার পা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে পা কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি জানান।

একই চিকিৎসকের কাছে অস্ত্রোপচার করানো বড়াইগ্রামের জহুরা বেগমের (৬০) হাতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। তার পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন চিকিৎসা করিয়েও হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে আসেনি।

এদিকে লালপুর উপজেলার কৃষক ওসমান গণির (৬৫) পরিবারের অভিযোগ, কাঁধের টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচারের সময় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক আর খোঁজ নেননি। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া গেছে যে তিনি কোনো ভুল চিকিৎসা দেননি।

আরেক রোগী আনোয়ারা বেগমের পরিবারের অভিযোগ, পায়ের অস্ত্রোপচারের পর এক্সরে প্রতিবেদনে ড্রিল মেশিনের ভাঙা অংশ দেখা গেলেও তা অপসারণ করা হয়নি। পরে তার ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং পা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসক আয়ুব আলী বলেন, আনোয়ারা বেগমকে গুরুতর অবস্থায় আনা হয়েছিল। পরীক্ষায় অস্ত্রোপচারের সময় ড্রিল মেশিনের একটি অংশ হাড়ের ভেতরে রয়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে বলে তিনি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি কাউকে ভুল চিকিৎসা দেননি। তবে অস্ত্রোপচারের সময় ড্রিল মেশিনের অংশ ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে তিনি স্বীকার করেন।

নাটোরের সিভিল সার্জন মশিউর রহমান জানান, চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামের চিকিৎসায় কারও মৃত্যু বা পঙ্গুত্বের অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button