কানাডার দাবানলের ধোঁয়া ঠেকাতে সীমান্তে ‘দেয়াল’ তুলতে চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কানাডার দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া নিয়ে আবারও সমালোচনায় সরব হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তজুড়ে বিশাল একটি কৃত্রিম ‘এয়ার ফিল্টার’ বা বায়ু পরিশোধক দেয়ালের এআই-তৈরি ছবি প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্পের পোস্ট করা ছবিতে কল্পিত ওই স্থাপনাটিকে ‘নর্থ আমেরিকা এয়ার ফিল্টার ব্যারিয়ার’ নামে দেখানো হয়েছে। ছবির নিচে লেখা রয়েছে—‘ক্লিন এয়ার। ক্লিন বর্ডার্স।’ অর্থাৎ বিশুদ্ধ বাতাস ও সুরক্ষিত সীমান্তের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই-নির্মিত এই ছবিটি ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে ছবিটিতে একটি অসঙ্গতিও দেখা গেছে—বিশাল বায়ু পরিশোধক দেয়ালের দুই পাশেই পরিষ্কার নীল আকাশ ও সাদা মেঘ দেখা যাচ্ছে, যা ছবিটির মূল বার্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য ইস্যুতে বিরোধের কথা উল্লেখ করে দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টিকেও তিনি শুল্ক বাড়ানোর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
চলতি মাসের শুরুতে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে ডেট্রয়েট, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিসহ কিছু এলাকার বায়ুর মান খারাপ হয়ে যায়। পরে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ধোঁয়ার বিষয়টি নিয়ে কানাডার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।
কানাডাকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন নয়। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করে ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার প্রসঙ্গ তুলেছেন। এমনকি কানাডার প্রধানমন্ত্রীদের নিয়েও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের এসব অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় কানাডায় ‘বাই কানাডিয়ান’ নামে একটি বয়কট প্রচারণা শুরু হয়। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডীয়দের ভ্রমণ ও মার্কিন কিছু পণ্যের বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, কানাডার বড় একটি অংশ ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বড় অংশ কানাডার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।



