গরু জবাই নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়াল থালাপতি বিজয়ের সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের তামিলনাড়ুতে গরু জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকার। বুধবার (১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ তথ্য জানিয়েছে।
সরকারের দাবি, হাইকোর্টের দেওয়া রায় রাজ্যে বিদ্যমান গরু জবাই–সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুর প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কিছু গরু জবাইয়ের সুযোগ থাকলেও হাইকোর্টের নির্দেশ সেই আইনি কাঠামোর বাইরে চলে গেছে।
গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্ট ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশ কার্যকরের নির্দেশ দিয়ে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আদালতের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির স্বার্থে এ নির্দেশনা কার্যকর করা প্রয়োজন।
তবে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা স্পেশাল লিভ পিটিশনে উল্লেখ করেছে, তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮ অনুযায়ী ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কর্মক্ষমতা বা প্রজননক্ষমতা হারানো গরু ও বাছুর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে জবাই করা যায়। ফলে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা ওই আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, একাধিক প্রচলিত আইনের আলোকে গরু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে হাইকোর্ট রাজ্যের আইনসভার ক্ষমতার ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করেছে এবং বিচারিক এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করেছে।
বিতর্কিত এই নির্দেশ দেন মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ। আদেশে বলা হয়, পশু জবাই শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানায় করা যাবে। পাশাপাশি ঈদুল আজহাসহ বছরের যেকোনো সময় গরু ও বাছুর জবাই ঠেকাতে রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাজ্য সরকারের মতে, আদালতের এই নির্দেশনার ফলে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে অসংগতি তৈরি হয়েছে। তাই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ইন্দু মাক্কাল কাচ্চির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সূর্যের করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এ আদেশ দিয়েছিল। আবেদনে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে গরু জবাই বন্ধে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।



