সাংবাদিক পরিচয়ে বাসা ভাড়া, বকেয়া ৯৬ হাজার টাকা; পাওনা আদায়ে গিয়ে হুমকির মুখে বাড়িওয়ালা

ডেস্ক রিপোর্ট: গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে সাংবাদিক পরিচয়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বকেয়া টাকা পরিশোধের তাগাদা দিলে তিনি বাড়ির মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পূবাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে সাখাওয়াত হোসেন সৌরভ (৩৩) নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পূবাইল থানার মাজুখান উত্তরপাড়া এলাকায় ইতালি প্রবাসী হিমিকার মালিকানাধীন একটি বাসা ভাড়া নেন। মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার টাকা এবং ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল পৃথকভাবে পরিশোধের শর্তে তিনি পরিবারসহ সেখানে বসবাস শুরু করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রথম দিকে কয়েক মাস নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করলেও পরে ধীরে ধীরে বকেয়া বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে টানা ১৮ মাসের বাসাভাড়া বাবদ ৯০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৬ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করেই তিনি বাসায় অবস্থান করেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার মৌখিকভাবে তাগাদা দেওয়া হলেও প্রতিবারই বিভিন্ন অজুহাতে সময় নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে অভিযুক্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করে বাসা ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে বাসায় তালা লাগিয়ে তিনি নিজ জেলা নরসিংদীতে চলে যান। দীর্ঘ সময় বাসাটি বন্ধ থাকলেও ভেতরে তার মালামাল পড়ে ছিল। মালামালের নিরাপত্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বাড়ির মালিক বাসার দরজায় অতিরিক্ত একটি তালা লাগান।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। সর্বশেষ গত ৫ মে বিকেলে বকেয়া টাকা পরিশোধ করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বাড়ির মালিকসহ তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাখাওয়াত হোসেন সৌরভের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



