৮ মাসের কন্যাসন্তানকে বিক্রির পর চুরির নাটক সাজালেন মা

চাঁদপুর (ডিজিটাল) প্রতিনিধি: চাঁদপুরে অভাবের তাড়নায় ৮ মাসের এক কন্যাসন্তানকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার পর অপহরণ বা চুরির নাটক সাজানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে শিশুর ক্রেতা থানায় এসে পুরো ঘটনা প্রকাশ করলে পুলিশের তদন্তে আসল সত্য বেরিয়ে আসে। অভিযুক্ত মায়ের নাম শিউলি বেগম। তিনি চাঁদপুর শহরের রঘুনাথপুর ভাঙ্গারপুল এলাকার লিটনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মা শিউলি বেগম তাঁর ৮ মাসের শিশুকন্যা লামিহাকে ৩০ হাজার টাকায় এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর তিনি চাঁদপুর শহরের মিশন রোড এলাকায় অচেতন হয়ে পড়ার ভান ধরে সন্তান অপহরণের একটি মিথ্যা গল্প প্রচার করেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, শহরের দর্জিঘাট এলাকায় বাবার বাড়ি থেকে সন্তানকে নিয়ে অটোরিকশায় স্বামীর বাড়িতে ফেরার পথে মিশন রোড এলাকায় এক নারী তাঁকে অচেতন করে শিশু ও সঙ্গে থাকা ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে অটোরিকশাচালক তাঁকে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তবে শনিবার বিকেলে শিশুটির ক্রেতা ইয়াসিন আক্তার ওরফে কামরুল থানায় এসে হাজির হলে সমস্ত নাটকীয়তা পরিষ্কার হয়। পুলিশ জানায়, শিশুটিকে কোনো অপহরণ বা চুরির ঘটনা ঘটেনি; বরং মা-বাবার সম্মতিতেই আদালতের মাধ্যমে করা অ্যাফিডেভিট বা হলফনামার মাধ্যমে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছিল। ক্রেতা ইয়াসিন আক্তার ক্রয়ের সপক্ষে আইনি কাগজপত্রও পুলিশকে দেখান।
শিশুর বাবা লিটনের দাবি, তাঁর স্ত্রী তাঁকে না জানিয়েই সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন। অন্যদিকে মা শিউলি বেগমের দাবি, তাঁর স্বামী গত দুই মাস ধরে কর্মহীন। সংসারে তীব্র অনটন চলছে এবং সন্তানকে দুধ কেনার মতো অর্থও তাঁদের হাতে ছিল না। বাধ্য হয়েই তিনি এই পথ বেছে নেন।
শিউলির মা জানান, চরম দারিদ্র্যের কারণেই মূলত এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটিকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে মা-বাবার সম্মতিতেই শিশুটিকে ওই নিঃসন্তান দম্পতির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। বর্তমানে শিশুটি ক্রেতা দম্পতির জিম্মায় নিরাপদে রয়েছে। যেহেতু বিষয়টি পারিবারিক এবং আদালতের অ্যাফিডেভিটসংক্রান্ত, তাই আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



