২০ বছর ধরে মৃত সহকর্মীর বেতন তুলে নিচ্ছেন জামায়াত নেতা

বাংলা টিভি ডেস্ক: ভোলার তজুমদ্দিনে নামের মিলকে কাজে লাগিয়ে একটি দাখিল মাদ্রাসার মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে প্রায় দুই দশক ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি মাদ্রাসায় চাকরি নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে মাদ্রাসাটির সুপার মো. নুরুজ্জামান মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মহিউদ্দিন দাবি করেছেন, সুপারের দাবিকৃত অর্থ না দেওয়ায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালে মো. মহিউদ্দিন নামে একজন জুনিয়র শিক্ষক নিয়োগ পান। পরে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ অক্টোবর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিন সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে তিনি মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেও জুনিয়র শিক্ষক পদের বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এমপিও শিটে মহিউদ্দিনের ইনডেক্সের বিপরীতে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর প্রদর্শিত হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মহিউদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তার দাবি, ব্যাংক হিসাব নম্বর এক হলেও ওই হিসাব থেকে তিনি কখনও বেতন তোলেননি এবং নিয়োগের সময় কোনো তথ্য গোপনও করেননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে সমস্যার সমাধানের কথা বলে মাদ্রাসার সুপার তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। পরে তিনি তিন লাখ টাকা দিলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। টাকা ফেরত চাইতেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে মাদ্রাসার সুপার মো. নুরুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এমপিও সংক্রান্ত অসঙ্গতির বিষয়টি জানতে পারেন এবং পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেন। তবে মহিউদ্দিনের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা শাখার সেক্রেটারি কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য সোমবার একটি কমিটি গঠন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপারেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এবং তার বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।



