তাবিজের নামে প্রতারণা; তান্ত্রিক অন্তরের ভাড়া বাসায় চাঞ্চল্যকর আলামত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি (ডিজিটাল): গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে একটি ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা গুঞ্জন ও অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক ও অলৌকিক শক্তির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন অনুসন্ধানে বাসাটিতে বেশ কিছু রহস্যজনক আলামত দেখা গেছে। তবে উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর প্রকৃতি, সেগুলোর ব্যবহার এবং অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রশাসনিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। এ কারণে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধাপেরহাট পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে অবস্থিত একটি ভাড়া বাসাকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে বাসার ভেতরে বিভিন্ন ধরনের পুতুল, তাবিজ তৈরির সরঞ্জাম, মানুষের হাড় ও মাথার খুলির মতো দেখতে কিছু বস্তু, অশ্লীল ছবি এবং আরবি সদৃশ কিছু লেখা দেখতে পাওয়া যায়।
তবে এসব বস্তু প্রকৃতপক্ষে কী, সেগুলো মানুষের হাড় কি না কিংবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কি না তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বাসাটি বিমা ব্যবস্থাপক রেজাউল করিমের মালিকানাধীন। সেখানে কয়েক মাস ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের একবারপুর গ্রামের অন্তর মিয়া (২৮)।
তার বিরুদ্ধে তাবিজ-কবজ ও ঝাড়ফুঁকের নামে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, কিছু তরুণকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী। যদিও এসব অভিযোগ এখনো প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা হয়নি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, পারিবারিক কলহ, ব্যবসায়িক ক্ষতি, প্রেম-ভালোবাসা কিংবা মামলা-মোকদ্দমার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হতো বলে তারা শুনেছেন। এছাড়া গভীর রাতে রাসায়নিকজাতীয় পদার্থ পোড়ানোর কারণে দুর্গন্ধে আশপাশের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বাসার ভেতরে এমন কিছু সামগ্রী ও কর্মকাণ্ডের আলামত দেখা গেছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। তাই পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অন্তর বলেন, পবিত্র কোরআন শরীফের পাশে মাথার খুলি রাখা ঠিক হয়নি। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কিছু কর্মকাণ্ড তার ভুল ছিল। তবে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
এ বিষয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. হাফিজ মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন ওই ব্যক্তিকে আটক করে রেখেছিলেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো কী ধরনের, সেগুলোর সঙ্গে প্রতারণা বা অন্য কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ফলে গুজব বা অনুমানের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে ঘটনার প্রকৃত চিত্র।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, ধর্মীয় বিশ্বাস, কুসংস্কার কিংবা অলৌকিক শক্তির নামে প্রতারণার অভিযোগ নতুন নয়। তবে এমন অভিযোগ সামনে এলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ যেমন জরুরি, তেমনি নির্দোষ কাউকে হয়রানি না করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য দ্রুত প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।



