৮৬ বছরের জীবনে, ১৬ হাজার মানুষকে কবরে শুইয়েছেন টুলু!

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: আমাদের জীবনের সমস্ত ব্যস্ততা, অহংকার আর অগণিত অর্জনের শেষ ঠিকানা, মাত্র সাড়ে তিন হাত মাটি। মৃত্যুর এই নির্মম সত্যের মুখে দাঁড়িয়ে যিনি প্রতিদিন নীরবে প্রস্তুত করেন মানুষের শেষ চিরনিদ্রার ঘর, তিনি ৮৬ বছর বয়সী আব্দুস ছোবাহান টুলু। গাইবান্ধা পৌর কবরস্থানের এই নীরব প্রহরী দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে একা হাতে খুঁড়েছেন ১৬ হাজারেরও বেশি কবর! চোখের সামনে দেখেছেন হাজারো স্বজনের কান্না আর জীবনের শেষ বিদায়ের মর্মান্তিক বাস্তবতা। প্রতিটি মাটির ঘরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক-একটি জীবনের সমাপ্তি আর একটি পরিবারের বুকফাটা আহাজারি।
গাইবান্ধা শহরের মমিনপাড়ার বাসিন্দা টুলু মিয়া বহু আগেই সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন, কিন্তু মানবসেবার এই মহান কাজ থেকে অবসর নেননি একদিনের জন্যও। দিন কিংবা গভীর রাত, শহরের কোথাও কারও মৃত্যুর সংবাদ মিললেই কোদাল হাতে নির্জন কবরস্থানে ছুটে যান তিনি। ভোরের আলো ফোটার আগে কিংবা নিঝুম রাতের নিস্তব্ধতায়, যখন সবাই সুখে ঘুমায়, তখনো তিনি একমনে তৈরি করেন মানুষের শেষ সীমানা। বয়সের ভারে শরীর অনেকটাই নুইয়ে পড়েছে, কিন্তু প্রবীণ এই মানুষটির বিশ্বাস, মৃত ব্যক্তির শেষ সম্মানটুকু নিশ্চিত করাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তবে শুধু গোরখোদকদের এই নিরবচ্ছিন্ন ত্যাগই নয়, বর্তমানে চরম দুর্দশায় দিন কাটছে ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী গাইবান্ধা পৌর কবরস্থানের। প্রায় দুই একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই প্রাচীন কবরস্থানে দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সামান্য বৃষ্টি হলেই নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যায় পানিতে, সৃষ্টি হয় থমথমে জলাবদ্ধতা। ফলে স্বজন হারানোর কঠিন মুহূর্তে দাফনকার্য সম্পাদন করতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গোরখোদকদেরও।
দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিরসনে অবশেষে দেখা দিয়েছে আশার আলো। গাইবান্ধা পৌরসভার প্রশাসক মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, শিগগিরই নিচু স্থানে মাটি ভরাট করে এলাকাটি উঁচু করা হবে। ইতোমধ্যেই একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন কবরস্থান নির্মাণের জন্য বাজেট বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যেই শুরু হবে এর মূল রূপান্তরের কাজ।



