বাংলাদেশ

বাবাকে চেনার আগেই বাবা হারাল প্রবাসী শামীমের এক মাসের কন্যা

বাংলা টিভি ডেস্ক: এক মাস আগে ঘর আলো করে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান। সুদূর সৌদি আরবে বসে ভিডিও কলে মেয়েকে দেখতেন প্রবাসী শামীম আহমেদ। কাজের ফাঁকে মেয়ের মুখ দেখাই ছিল তার আনন্দ। অপেক্ষায় ছিলেন, কবে দেশে ফিরবেন, কবে নিজের হাতে মেয়েকে কোলে তুলে নেবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর শেষ হলো না।

রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে শামীম আহমেদ (৩৫)। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার আশায় মাত্র আট মাস আগে স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের রেখে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদেশে গিয়ে উপার্জন করে পরিবারের অভাব দূর করা এবং সন্তানকে সুন্দর ভবিষ্যৎ দেওয়াই ছিল শামীমের স্বপ্ন। কিন্তু ভয়াবহ আগুন মুহূর্তের মধ্যেই তার সেই স্বপ্নের সঙ্গে পরিবারের সব আশা-আকাঙ্ক্ষাও কেড়ে নিল।

শামীমের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। বাবার মুখ ভালোভাবে চিনে ওঠার আগেই বাবাকে হারিয়েছে তার এক মাস বয়সি সন্তান।

স্বজনরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার কয়েক মাস পরই শামীমের ঘরে আসে কন্যাসন্তান। সন্তানের জন্মের খবর পেয়ে দূর দেশে থেকেও ভীষণ আনন্দিত ছিলেন তিনি। তবে প্রবাসে থাকার কারণে মেয়েকে সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি। তাই ভিডিও কলেই মেয়েকে দেখতেন, কথা বলতেন এবং আদর করতেন। দেশে ফিরে মেয়েকে কোলে তুলে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।

শামীমের মা শাহীনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার সন্তানের লাশটা দ্রুত আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেন। অনেক আশা নিয়ে আমার সন্তান সৌদিতে গিয়েছিল। আমার এক মাস বয়সি নাতনি তার বাবাকে জীবিত অবস্থায় দেখতেও পারল না। আমার ছেলের একমাত্র মেয়ে রয়েছে, সরকার যেন তার ভবিষ্যতের জন্য কিছু করে।’

বাংলাদেশ সময় রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করলে কারখানার ভেতরে কর্মরত অবস্থায় শামীমসহ ১৬ জনের মৃত্যু হয়।

নলডাঙ্গার আরও দুই যুবকও ওই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। তারা হলেন খাজুরাশ্রীপুর পাড়ার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ (৩০) এবং মহিষডাঙ্গা গ্রামের আসলাম হোসেনের ছেলে রবিউল আউয়াল হৃদয় (২৫)।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান খান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, নিহতদের পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারি পর্যায়ে কার্যক্রম চলছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button