বাংলাদেশ

প্রেমের পর বিয়ে, কয়েক সপ্তাহেই অস্বীকার: তালাকের চাপ ও প্রাণনাশের অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি( ডিজিটাল): দুই বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে। দেনমোহর নির্ধারণ হয় ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু বিয়ের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্ত্রীকে অস্বীকার এবং তালাক না দিলে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার।

অভিযোগকারী অঞ্জলী খাতুন জানান, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর জিয়াবুল ইসলাম তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। একপর্যায়ে কাহালু উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাসও করেন।

অভিযুক্ত জিহাবুল ইসলাম বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার তাজুরপাড়া ইউনিয়নের বলাইল গ্রামের কাবিল ব্যাপারীর ছেলে। জিহাবুল পেশায় বগুড়া নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগকারী অঞ্জলী খাতুন জানান, চলতি বছরের ১৯ জুন ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে সামাজিকভাবে অনুষ্ঠান করে স্ত্রীকে ঘরে তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও তাকে বাবার বাড়িতে রেখে যান জিয়াবুল। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে যোগাযোগ কমিয়ে দেন তিনি এবং একপর্যায়ে স্ত্রীকে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ অঞ্জলীর। অঞ্জলী খাতুন বলেন, বিয়ের পর থেকে স্বামী তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং এখন তাকে তালাক দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী অঞ্জলী আরও দাবী করেন বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্কের সময় গোপনে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারন করেন তার স্বামী যা বলেছিলাম। আর সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও দিয়ে এখন ব্লাকমেইল করে তালাকের চাপ আর টাকা দাবী করে আসছে প্রতিনিয়ত।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তালাক দিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে রাজি না হলে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে ওই পরিবারকে।

এদিকে অভিযুক্ত জিয়াবুল ইসলামের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরাও ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে অভিযুক্তের বাবা বলেন, তার ছেলে জিহাবুলকে জোড় করে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর দিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়েছে। বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে, তবে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি।

তবে বিয়ের কাজি মাওলানা আব্দুল কাদের জানান, বিয়ের সময় কোনো জোরজবরদস্তি বা অনিয়ম হয়নি এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জিয়াবুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অঞ্জলী খাতুন। অভিযোগে তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রেম থেকে বিয়ে, আর সেই বিয়ের পরই সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর তদন্তের অপেক্ষা। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা চান। অন্যদিকে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button