বাংলাদেশ

থানায় পালিত হচ্ছে চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৫ গরু, জন্ম নিল এঁড়ে বাছুর

বাংলা টিভি ডেস্ক: নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশের অভিযানে গরু চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি গরুর আশ্রয় এখন থানা প্রাঙ্গণেই। প্রায় এক মাস ধরে চুক্তিভিত্তিক একজন ব্যক্তির মাধ্যমে গরুগুলোর যত্ন নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে উদ্ধার হওয়া একটি গর্ভবতী গরু থানা চত্বরে একটি এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত জুলাইয়ে রাণীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পর্যালোচনা করে কয়েকটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় গরু চুরির সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়।

রাণীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান, ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়। পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় নাটোরের নলডাঙ্গা এলাকা থেকে নওগাঁর আসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুলাই ভোরে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রাম এলাকায় অসিত নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তাকে আটক করার পাশাপাশি তার গোয়ালঘর থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর মধ্যে একটি ছিল গর্ভবতী।

পরবর্তীতে গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়ায় আদালতের নির্দেশে সেগুলো রাণীনগর থানার হেফাজতে রাখা হয়। গরুগুলোর নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যার জন্য চুক্তিভিত্তিক একজন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে গর্ভবতী গরুটি একটি এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান, বর্তমানে পাঁচটি গরুই সুস্থ রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহযোগিতায় নিয়মিত তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে গরুগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্ত করা না গেলে আগামী সপ্তাহে আদালতের কাছে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির অনুমতি চাওয়া হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম সম্পন্ন হলে বিক্রির অর্থ থেকে গরুগুলোর এতদিনের লালন-পালনে যে খরচ হয়েছে, তা পরিশোধ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button