বাংলাদেশ

গৃহবধূকে ভাতিজি জামাইয়ের কুপ্রস্তাব, রাজি না হওয়ায় নির্যাতন-ঘরবাড়ি ভাঙচুর

বাংলা টিভি ডেস্ক: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূকে মারধর, মানসিকভাবে হয়রানি এবং তার বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তার পরিবার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম হলদিবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নারীর দাবি, তার স্বামী অন্যত্র বিয়ে করার পর প্রায় এক বছর ধরে তার ভাতিজিজামাই মনিরুজ্জামান তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এমনকি রাত-বিরাতে তাকে উত্ত্যক্ত করা হতো। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালেও কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি জানালে মনিরুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন এবং বসতঘর ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

স্থানীয় বাসিন্দা লাভলী বেগমের দাবি, মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। সোমবারের ঘটনায় তাকে মারধরের পাশাপাশি ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনিরুজ্জামান। মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। বরং ওই পক্ষের লোকজন তার স্ত্রীকে মারধর করে মাথায় আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী নারী আরও দাবি করেন, তার স্বামী প্রায় দেড় বছর আগে অন্যত্র বিয়ে করেন। এর আগে ২০২৪ সালে মনিরুজ্জামান তার শাশুড়ির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তার শাশুড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করলে র‍্যাব মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতিতে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার হাতীবান্ধা থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জান সরকার বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button