আন্তর্জাতিক

প্রেমিকার পেছনে ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খরচ, ‘ব্রেকআপের’ পর আদালতে প্রেমিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রেমের সম্পর্ক চলাকালে সাবেক প্রেমিকার পেছনে প্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী। দামি উপহার, বিদেশ ভ্রমণ, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের পারিশ্রমিক ও জীবনবিমার প্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন খাতে তিনি মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার ব্যয় করেন। প্রতি সিঙ্গাপুর ডলার ৯৭ দশমিক ৪৪ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৭ টাকা।

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ওই অর্থ ফেরত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ব্যবসায়ী চন্দর আগরওয়াল। তবে তার দাবি নাকচ করে দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আগরওয়াল স্বেচ্ছায় এসব অর্থ ব্যয় করেছিলেন এবং সেগুলো ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।

মামলার নথি অনুযায়ী, চন্দর আগরওয়াল একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ফেলিসিয়া লির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

সম্পর্ক চলাকালে লিকে বিভিন্ন ধরনের ব্যয়বহুল উপহার দিতেন আগরওয়াল। আদালতে তিনি দাবি করেন, লি বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে সুদবিহীন ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের খরচ বাবদ ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার, বিদেশ ভ্রমণে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ফেংশুই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১৭ হাজার ডলার এবং জীবনবিমার প্রিমিয়াম বাবদ ২০ হাজার ডলার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তবে ফেলিসিয়া লি আদালতে এসব অর্থ ঋণ হিসেবে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তার দাবি, সম্পর্কের কারণে ভালোবাসা ও স্নেহ থেকে আগরওয়াল এসব অর্থ খরচ করেছিলেন এবং সেগুলো ছিল উপহার।

২০২৪ সালের মার্চে মামলা করেন আগরওয়াল। সম্পর্ক চলাকালে লির পেছনে ব্যয় করা অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি জানান তিনি।

সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারক লি সিউ কিন মামলাটি খারিজ করে দেন। বিচারকের মতে, কথিত ঋণের পক্ষে আগরওয়াল প্রয়োজনীয় নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। এমনকি লি তার কাছ থেকে এসব অর্থ ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন—এমন কোনো স্বীকৃতিও আদালতে দেখাতে পারেননি তিনি।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, সম্পর্কের সময় আগরওয়ালের পক্ষ থেকে লিকে দামি উপহার দেওয়ার ধারাবাহিকতা ছিল। তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হওয়ার আগেও তিনি লিকে বিভিন্ন উপহার দিয়েছেন। এসব উপহার ফেরত দিতে হবে না বলেও তিনি তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আগরওয়াল লির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সম্পর্ক চলাকালে তার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু সম্পর্ক তিক্তভাবে শেষ হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং ওই অর্থের মূল্য ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেন।

রায়ে আরও বলা হয়, আগরওয়াল আর্থিকভাবে যথেষ্ট স্বচ্ছল ছিলেন এবং বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। বিপরীতে লির আর্থিক সক্ষমতা তার তুলনায় কম ছিল।

বিচারক আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন খুদে বার্তায় লি আগরওয়ালের দামি উপহারের প্রস্তাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে তিনি এসব উপহার নিতে অনিচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন।

রায়ের শেষ দিকে ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম কংগ্রিভের একটি বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করেন বিচারক। প্রেম যখন ঘৃণায় রূপ নেয়, তখন তা ভয়ংকর রোষের জন্ম দিতে পারে—এমন বক্তব্য তুলে ধরে বিচারক বলেন, এ ধরনের আবেগ কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

সিঙ্গাপুরে প্রেম, প্রত্যাখ্যান ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিয়ে আদালতে যাওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের শুরুতে কে কাওশিগান নামে আরেক ব্যক্তি এক নারীর বিরুদ্ধে ৩০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছিলেন। ওই নারী তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

কাওশিগানের দাবি ছিল, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে আদালত তার মামলা খারিজ করে দেন। পরে ওই নারীও কাওশিগানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন এবং কথিত হয়রানি থেকে নিজেকে রক্ষায় আইনি লড়াইয়ে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা ফেরত দাবি করেন।

সূত্র: বিবিসি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button