
নিজস্ব প্রতিবেদক: কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় জমি নিয়ে বিরোধের ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী—‘নাজিম উদ্দীনের সম্পদ ভাঙা তাহলে বৈধ?’
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রাশেদ খাঁনের বক্তব্য শেয়ার করে এ প্রশ্ন তোলেন ইসরাফিল ফরাজী। তাঁর এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করে জমি মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে আনেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ভেতরে দুই পক্ষের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটে। এর সঙ্গে বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
রোববার দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন জানান, নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তার ২৩ কাঠা জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৮ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। ওই সাবেক কর্মকর্তাদের দাবি, অতীতে প্রভাব খাটিয়ে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দীন ওই ৮ কাঠা জমি দখল করেছেন।
রাশেদ খাঁনের পোস্টে আরও বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মামলায় নাজিম উদ্দীন জেলও খেটেছেন। সম্প্রতি তাঁর কাছ থেকে ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়ে সালমান মুক্তাদির স্টুডিও স্থাপন করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, একই সময়ে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দীন এমনভাবে তিনটি নতুন গেট নির্মাণ করেন, যাতে ভেতরে থাকা অন্য জমির মালিকরা প্রবেশ করতে না পারেন। ওই গেটগুলো দখলের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছে বলে সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করছেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লোকজন নিয়ে গেট ভাঙতে যান। একপর্যায়ে নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা চাইলে আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে পাল্টা শক্তি প্রয়োগ করায় বিএনপির ওপর দায় চাপানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাশেদ খাঁন দাবি করেন, দখল ও পাল্টা দখলের এই বিরোধের সঙ্গে বিএনপি বা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন সম্পদ দখলের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরাই এখন বিভিন্ন ঘটনার দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে দলটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন।
সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্য, পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর সালমানের বক্তব্য দেওয়া উচিত ছিল। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা না বলেই বিএনপির লোকজনকে চাঁদা না দেওয়ার কারণে স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়েছে—এমন বক্তব্য দিয়েছেন সালমান মুক্তাদির।
পোস্টের শেষ দিকে রাশেদ খাঁন বলেন, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তারা ব্যথিত। ঘটনায় জড়িতদের যথাযথ শাস্তি হবে এবং সালমান মুক্তাদির ন্যায়বিচার পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, রাশেদ খাঁনের বক্তব্যের যে অংশে নাজিম উদ্দীনের সম্পদ ভাঙচুরের প্রসঙ্গ এসেছে, সেটিই সামনে এনে ইসরাফিল ফরাজী প্রশ্ন তুলেছেন—‘নাজিম উদ্দীনের সম্পদ ভাঙা তাহলে বৈধ?’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই প্রশ্নের পর ঘটনাটির জমি বিরোধ, ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।



