গাজী নজরুলের বাসা থেকে পাওয়া মরিয়মের শেষ চিঠিতে যা লেখা আছে

বাংলা টিভি ডেস্ক: জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাড, সাদা কাগজ কিংবা লাল-কালো কালির লেখা—উদ্ধার হওয়া প্রতিটি পাতাতেই যেন ফুটে উঠেছে এক সম্পর্কের নানা অধ্যায়। কোথাও ভালোবাসার গভীরতা, কোথাও বিশ্বাসভঙ্গের ক্ষত, আবার কোথাও পরাজয়ের আক্ষেপের পাশাপাশি আত্মসম্মান ধরে রাখার দৃঢ় প্রত্যয়।
এমপি গাজী নজরুলের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা এসব হাতে লেখা চিঠিতে সম্পর্কের বিভিন্ন আবেগঘন মুহূর্তের বর্ণনা রয়েছে। লেখাগুলোতে ভালোবাসার পাশাপাশি প্রতারণার অভিযোগ, সম্পর্কের জটিলতা, বিশ্বাস হারানোর কষ্ট এবং মানসিক যন্ত্রণার কথাও উঠে এসেছে। নিজেকে কারও ‘দাবার গুটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার আক্ষেপের পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথাও রয়েছে।
একটি লেখায় তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, “তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি”—যার মধ্য দিয়ে সম্পর্কের ভেতরের দ্বন্দ্ব ও বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। আরেক জায়গায় লেখা হয়েছে, “আমি হেরেছি—তুমি জিতেছো”, যা পরাজয় ও প্রতারিত হওয়ার বেদনার ইঙ্গিত দেয়।
অন্য একটি পাতায় সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে লেখা হয়েছে, ওই ব্যক্তি ছিলেন অন্য এক নারীর স্বামী। সেখানে নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, অন্য কারও স্বামীকে নিজের ভালোবাসার মানুষ হিসেবে বেছে নেওয়া ছিল এক ধরনের ভুল। একই সঙ্গে ভালোবাসাকে ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়—এমন দৃঢ় অবস্থানের কথাও উঠে এসেছে।
আরেকটি লেখায় বন্ধুত্বের প্রস্তাবের আড়ালে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “আজ থেকে আমরা বন্ধু—চলো একটা গেমস খেলি”—এমন কথায় বিশ্বাস করে রাজি হলেও পরে নিজেকেই সেই খেলায় ‘দাবার গুটি’ হিসেবে আবিষ্কার করার কষ্ট পেয়েছেন লেখক।
জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি পাতায় বিশ্বাস করে ঠকে যাওয়ার আক্ষেপের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে নিজের কষ্ট আড়াল করে হাসিমুখে থাকার কথা উল্লেখ করে সেই হাসিকেই একসময় অন্য পক্ষের জন্য বিপদের কারণ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
‘মরিয়মের শেষ চিঠি’ হিসেবে উল্লেখ করা একটি পাতায় লাল কালিতে লেখা সংক্ষিপ্ত বার্তায় আত্মসম্মানের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শুধু মায়ায় পড়ে বারবার নত হওয়া মানেই নিজেকে দুর্বল বা সস্তা ভাবার সুযোগ দেওয়া নয়।
এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া কাগজগুলোর মধ্যে ‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখ লেখা একটি পাতাও রয়েছে। সেখানে ঘুমানোর আগে পড়ার জন্য কয়েকটি ধর্মীয় আমলের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কালেমা, দরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসি, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ২১ বার, আস্তাগফিরুল্লাহ ৩ বার, ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া এহিয়া’, দরুদ শরিফ ১১ বার এবং ‘ইয়া আরহামার রাহিমিন’ ১১ বার পড়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, উদ্ধার হওয়া বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা এসব হাতে লেখা পাতায় একটি সম্পর্ককে ঘিরে ভালোবাসা, অভিমান, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণার অভিযোগ, মানসিক কষ্ট এবং আত্মসম্মান রক্ষার নানা অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। পাশাপাশি কিছু লেখায় ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তার ভাষাও দেখা যায়।



