
বিনোদন ডেস্ক: নারীর শরীরের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া হলেও পিরিয়ড নিয়ে নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় নারীদের। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির নারীর ক্ষেত্রেই কমবেশি একই অভিজ্ঞতা দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে কথা বলেছেন বলিউডের অনেক অভিনেত্রী।
এবার পিরিয়ডের শারীরিক যন্ত্রণা, পিসিওএস (PCOS) এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত সংকোচের বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন দক্ষিণ ভারতীয় ও বলিউডের অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান। সোহা আলি খানের পডকাস্টে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রসিকতা করে তিনি বলেন, পুরুষদেরও পিরিয়ড হওয়া উচিত। তাহলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য ‘পিরিয়ড লিভ’ বিষয়টি হয়তো আরও গুরুত্ব পেত।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোহা আলি খানের পডকাস্টে ঋতুস্রাবের সময় তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে কথা বলেন শ্রুতি। তার মতে, পিরিয়ডকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের এ সময় প্রয়োজনীয় ছুটির সুযোগ থাকা দরকার।
শ্রুতি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পিসিওএসের কারণে তাকে তীব্র পিরিয়ডের ব্যথা ও পেটের ক্র্যাম্প সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু শুটিং সেটে নিজের এই শারীরিক সমস্যার কথা প্রকাশ্যে বলতে একসময় অস্বস্তি বোধ করতেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলাকে প্রায় নিষিদ্ধ মনে হতো তার।
পডকাস্টে শ্রুতি বলেন, ‘আমার মনে হয় এর একটাই সমাধান আছে। আমি হাজারবার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছি, যেন পুরুষদেরও পিরিয়ড শুরু হয়! তাহলে অন্তত কাজের কন্ট্রাক্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পিরিয়ড লিভ’ লেখা থাকত।’
শ্রুতির কথায় সহমত জানিয়ে সোহা আলি খান রসিকতা করে বলেন, পুরুষরাও তখন হয়তো কে কতটা রক্তপাতের মুখোমুখি হচ্ছেন বা কার ট্যাম্পনের আকার কত বড়—এসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতেন।
নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পুরুষ সহকর্মীদের পাওয়া সুবিধার তুলনাও তুলে ধরেন শ্রুতি। তিনি জানান, একবার তার এক সহ-অভিনেতা হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কথা জানিয়ে শুটিংয়ের সময়সূচি সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করার অনুরোধ করেছিলেন।
শ্রুতি বলেন, ‘আমিও তখন নিজের পিরিয়ডের কথা পরিচালককে জানাই। ওই প্রথমবার আমি কোনো পরিচালককে এ কথা বললাম। তার নিজেরও মেয়ে আছে। তিনি তখন জানালেন, তার মেয়েরও পিরিয়ডের সময় খুব ব্যথা হয়। তারপর থেকেই আমার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।’
শ্রুতির বক্তব্যে কর্মক্ষেত্রে নারীদের মাসিকজনিত শারীরিক সমস্যাকে স্বাভাবিকভাবে দেখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার মতে, নারীদের এমন স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থাকা জরুরি।
এর আগে রাশ্মিকা মান্দানা, জাহ্নবী কাপুর ও দীপিকা পাড়ুকোনও পিরিয়ড নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে, পুরুষরা যদি পিরিয়ডের শারীরিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতেন, তাহলে নারীদের এই সময়ের কষ্ট আরও ভালোভাবে বুঝতে পারতেন।



