অসুস্থ গরু জবাই, ৩৪ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ

গাইবান্ধা (ডিজিটাল) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির ঘটনার পর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। গত দুই দিনে নতুন করে আরও তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এদিকে রোগের বিস্তার ঠেকাতে গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলাম গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি অসুস্থ গরু জবাই করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন ওই গরুর মাংস কাটাকাটিতে অংশ নেন। মাংস ভাগ করে বিভিন্ন পরিবারের মধ্যেও দেওয়া হয়।
এর কয়েক দিন পর মাংস কাটাকাটিতে অংশ নেওয়া কয়েকজনের শরীরে জ্বর, মাথাব্যথা ও ফোস্কার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন।
গত দুই দিনে নতুন করে চিকিৎসা নিতে আসা তিনজন হলেন সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছহাটি গ্রামের মোছা. শাহিনুর বেগম, মো. আনছার আলী ও মো. জবেদ আলী। তাদের নিয়ে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগের বিস্তার রোধে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে।
এদিকে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর মধ্যেও যাতে রোগটি ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ২০ হাজার পশুর ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার পশুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ হাজার ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও স্থানীয় মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে সভা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে অসুস্থ বা সন্দেহজনক পশু পরীক্ষা ছাড়া জবাই না করার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (রোগ নিয়ন্ত্রক) ডা. মেহেদি হাসান বলেন, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অসুস্থ পশু জবাই ও মাংস কাটাকাটির ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অসুস্থ বা সন্দেহজনক পশু জবাই না করা, মাংস কাটাকাটির সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং শরীরে সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।



