বাংলাদেশ

এক টাকার মাস্টার: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষক না হয়েও লুৎফর রহমান পাচ্ছেন অবসরভাতা

বাংলা টিভি ডেস্ক: দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের পড়াশোনায় ধরে রাখতে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন গাইবান্ধার লুৎফুর রহমান। গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিশুদের পড়ান তিনি। বিনিময়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে নেন মাত্র এক টাকা। দীর্ঘদিনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘এক টাকার মাস্টার’ নামে।

শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তাকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে সরকার। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের গুণী শিক্ষকদের সঙ্গে লুৎফুর রহমানকেও সম্মানিত করা হয়। তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি লুৎফুর রহমানকে সরকারি অবসরভাতার আওতায় আনার বিষয়েও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেন।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁধ এলাকায় বসবাস করেন লুৎফুর রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সাল থেকে তিনি নদীপাড়ের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়িয়ে আসছেন।

অর্থের অভাবে যেসব শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত বা পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে, তাদের শিক্ষার আওতায় রাখাই তার মূল লক্ষ্য। দীর্ঘ সময় ধরে নিজের উদ্যোগে তিনি এই শিক্ষাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিনের পড়ানোর বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছ থেকে নেন মাত্র এক টাকা।

কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন না করেও বছরের পর বছর শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন লুৎফুর রহমান। তার কাছে পড়াশোনা করে এখন পর্যন্ত বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থী। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য তার এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ তৈরির অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ ক্যাটাগরিতে লুৎফুর রহমান ছাড়াও ‘রমনী কান্ত পাঠশালা’র রমনী কান্ত বেপারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের সহকারী শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খানকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি, বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা, কৃষি ও প্রকৌশল শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকসহ বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষকদের সম্মানিত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button