ঘুস না পেলে যে কৌশল গ্রহণ করেন সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল

বাংলা টিভি ডেস্ক: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা, দলিল সম্পাদনে অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দলিলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও নির্ধারিত অর্থের বাইরে টাকা না দিলে দলিলে স্বাক্ষর করা হয় না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় দলিল লেখক ও সেবাপ্রত্যাশীরা।
অভিযোগ রয়েছে, কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে সাবরেজিস্ট্রার সপ্তাহে তিন দিনের বেশি অফিসে থাকেন না। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দাতা-গ্রহীতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেককে একাধিকবার অফিসে এসে কাজ শেষ করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ দিলে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকার পরও দলিল সম্পাদনের সুযোগ মিলছে। বিপরীতে বাড়তি অর্থ দিতে রাজি না হলে বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্রের ত্রুটি দেখিয়ে দলিল ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে সেবাপ্রত্যাশীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।
সম্প্রতি সরেজমিনে সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দলিলপ্রতি নির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পর কিছু দলিলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে সেগুলো এজলাসে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে অর্থ দিতে অনিচ্ছুক ব্যক্তিদের দলিলে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
বারাইপুর গ্রামের শাহাদাত অভিযোগ করেন, সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাব-কবলা দলিলের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং হেবার ঘোষণা দলিলের জন্য ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। কাগজপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে এর সঙ্গে আরও ৬০০ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দীন মোহাম্মদ নামে এক সেবাপ্রত্যাশী অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত অর্থ না দেওয়ায় তাদের দলিলের কাগজপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ ঘোরার পর মঙ্গলবার অফিসের সাইফুল আলমের কাছে ১ হাজার ৩০০ টাকা দেওয়ার পর দলিলটি গ্রহণ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের কথা জানান। তাঁর ভাষ্য, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পে-অর্ডারের বাইরে নগদ অর্থ নেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়ালে দলিল লেখকদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, জেলা রেজিস্ট্রারকে অবহিত করেই তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী অফিসের বাইরে থাকেন। তবে ঘুস বা অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।



