আইন-বিচারবাংলাদেশ

ঘুষগ্রহণের মামলায় নাজমুল হুদার জামিন

ঘুষগ্রহণের মামলায় চার বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদাকে জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে তার লিভ টু আপিল গ্রহণ করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ তাকে জামিন দেয়।
আদালতে নাজমুল হুদার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ,মনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজমুল হুদার স্ত্রী সিগমা হুদা। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে, এ মামলায় নাজমুল হুদাকে সাত বছরের সাজা দিয়েছিল নিম্ন আদালত। ২০১৭ সালে হাই কোর্ট তার সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেয়।

প্রসঙ্গত, নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২১শে মার্চ ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘খবরের অন্তরালে’র জন্য মীর জাহের হোসেনের কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদা।
এরপরে একই বছরের ২৭শে আগস্ট ঘুষ গ্রহণের দায়ে নাজমুল হুদাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। একইসঙ্গে তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে ২০১১ সালের ২০শে মার্চ তাদের খালাস দেন হাইকোর্ট। কিন্তু হাইকোর্টের এ রায়ের বিপক্ষে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ১লা ডিসেম্বর খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে এই মামলার পুনঃশুনানি নেওয়া হয়। পুনঃশুনানির পর ২০১৭ সালের ৮ই নভেম্বর বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে নাজমুল হুদার সাজা কমিয়ে চার বছর কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। একই রকম মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তার স্ত্রী সিগমা হুদার কারাগারে থাকাকালীন সময়কে সাজা হিসেবে গণ্য করেছেন।

হাই কোর্টের ওই রায়ের পর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করেই হাই কোর্টের সাজার বিরুদ্ধে আপিল শুনানির অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নাজমুল হুদা।

কিন্তু ২০১৮ সালের ৭ই জানুয়ারি সে আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। একই বছর ১৮ই নভেম্বর হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদার আপিল খারিজ করে তাকে ৪৫ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।

আর চলতি বছরের ৬ই জানয়ারি এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই দিন নাজমুল হুদা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে,আদালত তা নাকচ করে সাবেক এই মন্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাংলাটিভি/পাইক

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button