অপরাধআইন-বিচারবাংলাদেশ

কিবরিয়া হত্যা: ১৪ বছরেও হয়নি বিচার

সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচার কাজ দীর্ঘ ১৪ বছরেও শেষ হয়নি।এতে নিহতদের পরিবার ও আহতদের মধ্যে রয়েছে হতাশা, ক্ষোভ।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া।
ওই হামলায় প্রাণ হারান কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী; আহত হন শতাধিক নেতাকর্মী।

ঘটনার পরদিন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন।
বর্তমানে হত্যা মামলাটি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এবং বিস্ফোরক আইনের মামলাটি হবিগঞ্জের বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন।
হবিগঞ্জের আদালতের স্পেশাল পিপি কিশোর কুমার কর জানান, এ মামলার ১৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। মামলার পরবর্তী তারিখ রয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারি।
তিনি বলেন, “এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় নির্ধারিত দিনে তাদের আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না। ফলে বিচার কাজ বিলম্ব হচ্ছে।”

মামলা হওয়ার পর ২০০৫ সালের ২০ মার্চ এ মামলার প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির তৎকালীন এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান।
এতে জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল কাইউম, ও ব্যাংক কর্মকর্তা আয়াত আলী, কাজল মিয়া, সাবেক জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক সেলিম আহমেদ, জিয়া স্মৃতি গবেষণা পরিষদ জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহেদ আলী, বিএনপি কর্মী তাজুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন জালাল, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জমির আলী, জয়নাল আবেদীন মোমিন ও মহিবুর রহমান।

মামলার বাদী আবদুল মজিদ খান ২০০৬ সালের ৩ মে সিলেট দ্রুত বিচার আদালতে নারাজি আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেয়। এরপর ১৪ মে তিনি হাই কোর্টে আপিল করেন। ওই আপিলের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট একটি রুল জারি করে, এ মামলায় কেন অধিকতর তদন্ত করা হবে না-তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। এর বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ১৮ মে লিভ টু আপিল করে সরকার, কিন্তু আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেয়।
এরপর জরুরি অবস্থার সময় মামলার অধিকতর তদন্ত শুরু হয়, দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামকে।
তিনি ২০১১ সালের ২০ জুন আরও ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আগের আসামিদেরও সেখানে রাখা হয়।
এ অভিযোগপত্রে আসামির তালিকায় নতুন যোগ হয় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, লস্করই তৈয়বার সদস্য আব্দুল মজিদ কাশ্মিরি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, মহিউদ্দিন অভি, শাহেদুল আলম দিলু, সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ, ফজলূল আলম মিজান, মিজানুর রহমান মিঠু, মোহাম্মদ আব্দুল হাই, মোহাম্মদ আলী, মুফতি সফিকুর রহমান, বদরুল এনায়েত ওরফে মো. বদরুল, বদরুল আলম মিজানের নাম। কিন্তু কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া ২০১১ সালের ২৮ জুন আবারও নারাজি জানান।
এরপর আদালতের নির্দেশে আবার তদন্ত শুরু হয়; ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল নতুন ১১ জনকে যুক্ত করে তৃতীয় দফা সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন। তার অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের মেয়র গোলাম কিবরিয়া গউসসহ মোট ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার আসামিদের মধ্যে জঙ্গি দল হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি) নেতা মুফতি হান্নানসহ তিন আসামির অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গ্রেনেড হামলায় আহত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ মো. আবু জাহির বলেন, “আমি বেঁচে থাকার আশাই ছেড়েই দিয়েছিলাম। ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ হলেও এখনও আমার গায়ে গ্রেনেডের শত স্পিন্টার। পায়ে স্টিল লাগানো। তবে বেঁচে আছি এটাই বড় কথা।”
গ্রেনেড হামলায় পঙ্গু জীবন কাটাতে হচ্ছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লা সর্দারকেও।তিনি বলেন, ‘“জননেত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় বেঁচে আছি। না হয় এত দিনে মরেই যেতাম।”
আহতদের অনেকেই এ মামলার বিচার শেষ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তবে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান আশাবাদি, তার বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের এ সরকারের আমলেই বিচার শেষ হবে।
বাংলাটিভি/পাইক

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button