দুর্ঘটনাদেশবাংলাবাংলাদেশ

পুরান ঢাকার আগুন নিয়ন্ত্রণে, ৭০ লাশ উদ্ধার

|| প্রিন্স ||

রাজধানীর চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৭০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ। এর মধ্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া মরদেহের মধ্যে ৪৮ পুরুষ ৫ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছে। চুড়িহাট্টায় ফায়ার সার্ভিসের অস্থায়ী তথ্য কেন্দ্র থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেখান থেকে বলা হয়েছে, আজ সকাল পর্যন্ত তাদের উদ্ধার অভিযানে ৭০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সার্চিং অভিযান চলছে। প্রতিটি বিল্ডিংয়ের প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি শেষে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পুরো তথ্য দেয়া সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন, আগুন পুরোপুরি নেভেনি তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। কিছু কিছু জায়গায় এখনও জ্বলছে। বিভিন্ন ক্যামিক্যাল, বডি-স্প্রে, প্লাস্টিক দ্রব্য এসবের কারণে আগুন ছড়িয়েছে। আর সরু রাস্তার কারণে আগুন নেভানোর কাজে সমস্যা হয়েছে। লাশের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বুধবার রাত তখন দশটা, অন্যান্য দিনের মতই রাজধানীর চকবাজারের চুরিহাট্টা মসজিদের গলিতে লেগে আছে যানজট। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, হঠাৎ করেই বিকট শব্দে কেঁপে উঠে আশপাশের এলাকা। মসজিদের পাশের ওয়াহেদ ভবন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বেশ কয়েকটি বাসা বাড়িসহ নন্দকুমার দত্ত সড়কে থাকা কয়েকটি খাবার হোটেলে।একই সাথে যানজটে আটকে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। চারতলা আবাসিক ওই ভবনটির নিচতলায় কেমিক্যাল গুদাম থাকায় আগুনের ভয়াবহতা দ্রুত বাড়তে থাকে। একের পর এক বিকট শব্দে কেঁপে উঠে পুরো এলাকা।

আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ৩৭টি ইউনিট। আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার পাশাপাশি, শুরু করে আটকা পড়াদের উদ্ধার কাজ। সরিয়ে নেয়া হয় আশপাশের ভবনের বাসিন্দাদের। কিন্তু এলাকার সড়ক সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয় উদ্ধার তৎপরতায়।এর আগে ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলিতে প্লাষ্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন মারা যায়। এরপর থেকেই ওই এলাকা থেকে কেমিক্যল গুদাম উচ্ছেদের জোর দাবি উঠলেও আজও তা কার্যকর হয়নি।

এই ঘটনায় দগ্ধসহ আহত কমপক্ষে অর্ধশত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আরও জানা যায়, যে ভবনটিতে প্রথমে আগুন লেগেছে সেটি সাত তলা। নাম- ওয়াহেদ ম্যানশন। ভবনটির নিচতলায় কেমিক্যাল গোডাউন এবং প্লাস্টিক তৈরির উপকরণের দোকান রয়েছে। ভবনটির পাশের ওয়াহিদ মঞ্জিল, আমানিয়া হোটেল, রাজ হোটেল এবং উল্টা পাশের চারটি বাসায় আগুন ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা আরও জানান, আরিফ ম্যানশন নামে একটি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া যায়।

রাত ১টার পরে ঢামেক বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক হোসাইন ইমাম মিডিয়াকে ব্রিফ করে জানান, দগ্ধ ১০ জন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে চার জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশিস ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, যে ভবনে প্রথম আগুন লেগেছে, সেটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনও সময় ধসে পড়তে পারে।

বাংলাটিভি/প্রিন্স

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button