অপরাধদেশবাংলা

ধানসিঁড়ি নদী পুনঃখননে “পুকুর চুরি”

|| নজরুল ইসলাম ||

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের স্মৃতি বিজড়িত ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ধানসিঁড়ি নদী পুনঃখননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের সকল চুক্তি ভঙ্গ করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী ভাবে খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্কেভেটর মেশিন দিয়ে নদীর দু পাড় থেকে মাটি ছেঁটে পাড়েই এমন ভাবে রাখা হচ্ছে যে, আগামী বর্ষা মৌসুমে তা ধুয়ে পুনরায় নদী ভরাট হয়ে যাবে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে চুক্তির শর্তের ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোন ছাড় দেয়া হবে না। প্রধান মন্ত্রীর ডেলটা প্লান অনুযায়ী ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী খাল খনন প্রকল্পের আওতায় রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের প্রিয় ঝালকাঠি জেলার ধানসিঁড়ি নদীর সাড়ে আট কিলোমিটার খননের জন্য ৪ কোটি ৪৯ লাথ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের শর্তানুযায়ী নদীর তলদেশ থেকে মাটি কেটে পাড় থেকে দুরে রাখতে হবে। সমতল থেকে নদীর গভীরতা হতে হবে ৪.৭ মিটার।

কিন্তু বাস্তবে দু পাড় থেকে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি ছেঁটে পাশে রেখে উচ্চতা বাড়ানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে সমতল থেকে ৩.৫১ মিটার গভীর করা হচ্ছে। পাশে মাটি রাখার কারণে আগামী বর্ষা মৌসুমে তা ধুয়ে পুনরায় নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির উদ্দেশ্য সফল হওয়া নিয়ে স্থানীয়রা সংশয় প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মাটিকাটার কাজে নিয়োজিতরা ঠিকাদারের নির্দেশ মত কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন।

এস.এম. আতাউর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী, ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বিভাগ বোর্ডের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন নদী খনন প্রকল্পের শর্তের ব্যাপারে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে ন। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মোঃ হামিদুল হক, জানান, খনন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপর পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রয়েছে।

বাংলাটিভি/প্রিন্স

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button