কাল ভারতের লোকসভা নির্বাচন

কাল থেকে শুরু হচ্ছে ভারতের লোকসভা নির্বাচন। প্রথম দফায় কেন্দ্র শাসিত দুটি অঞ্চল ও ১৮টি রাজ্যের মোট ৯১টি আসনে ভোট হবে। ১৯ মে পর্যন্ত সাত ধাপে ভোটগ্রহণ শেষে ২৩ মে জানা যাবে, কে বসছে দিল্লির মসনদে। বিভিন্ন সংস্থার নির্বাচনপূর্ব জরিপ বলছে, ২০১৪ সালের চমক দেখানো বিজেপি এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠা নাও পেতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকার গঠনে রাজ্যভিত্তিক আঞ্চলিক দলগুলোকে বড় ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলেও মত বিশ্লেষকদের।
জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের ভোট উৎসব শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের ২৯টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলোতে এবার ভোট হবে সাত ধাপে। ১৩৭ কোটি জনসংখ্যার ভারতে এবার নিবন্ধিত ভোটার প্রায় ৯০ কোটি। যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিনগুণ। প্রথম দফায় ভোট হবে কেন্দ্র শাসিত দুটি অঞ্চল- আন্দামান-নিকোবর ও লক্ষদ্বীপের দুটি আসনে এবং অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল, আসাম, বিহার, ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গসহ ১৮টি রাজ্যের মোট ৮৯টি আসনে। আগামী ১৯ মে পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। চারদিন পর ২৩ মে ৫৪৩টি আসনের ফল একসাথে ঘোষণা করবে দেশটির নির্বাচন কমিশন।
২০১৪ সালের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে চমক দেখিয়ে প্রথমবারের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিজেপি। অনেক প্রতিশ্র“তির বাস্তবায়ন না হলেও এবারের নির্বাচনেও মোদি-অমিত জুটির ক্যারিশমায় সাংগঠনিকভাবে ভালো অবস্থানে বিজেপি।
অন্যদিকে, ১৩৩ বছরের পুরনো দল কংগ্রেস কি পারবে এবারের সরকার গঠন করতে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটি। ২০১৪ সালের শোচনীয় হারের পর বিগত পাঁচ বছরে বিভিন্ন রাজ্য হাত ছাড়া হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই দলটির। তবে, রাহুল গান্ধী দলের হাল ধরার পর শক্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে দলটি। গত ডিসেম্বরে তিনটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জয় যেন তারই প্রমাণ। সেই সাথে বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দলে যোগ দেয়ায় কংগ্রেসের পালে লেগেছে নতুন হাওয়া।
১৭তম লোকসভা নির্বাচনে বড় ইস্যু বেকারত্ব। এছাড়াও নোট বাতিল, কৃষক অসন্তোষ, দলিত সম্প্রদায়ের ক্ষোভ আর দুর্নীতির মত বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের বিপক্ষে প্রচারণায় কাজে লাগিয়েছে বিরোধী শিবির। অন্যদিকে, পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে পাল্টা হামলায় জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রচারের প্রধান বিষয় বানিয়েছেন মোদি। নির্বাচনপূর্ব একাধিক জরিপের ফল বলছে, এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে বিজেপি সরকার। অন্যদিকে, কংগ্রেসের আসন সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে এসব জরিপ। তবে জরিপ যাই বলুক- ভোটের ফল কি হবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২৩শে মে পর্যন্ত।
বাংলাটিভি/রাজু



