নতুন মোড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ পঁচা খেজুরে বাজার ছয়লাব

রোজাকে সামনে রেখে এক শ্রেণীর অসাধুব্যবসায়ী যেকোন উপায়ে মানুষকে ঠকিয়ে টাকা কামানোর জন্য দিশেহারা হয়ে পড়েছে। খাদ্যে ভেজাল এটা বাংলাদেশের জন্য নিত্যনৈমেত্তিক বিষয়। অথচ পবিত্র রমজান মাসকে উদ্দেশ্যে করে মানুষকে ভেজাল খাবার খাওনোর প্রবণতা সত্যি দু:খজনক। এমনই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এমন হীনকর্ম করে যাচ্ছে। একজন রোজাদার সারাদিন রোজা রাখার পর যে খাদ্যটি প্রথমে খেয়ে রোজা ভঙ্গ করবেন সেই খাদ্যেই ভেজাল। কী মর্মান্তিক বিষয়। জানা গেছে বাদাম তলির একটি প্রতিষ্ঠানে ২৪ তারিখে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে গিয়ে দেখতে পান, প্রচুর পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর নতুন প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করা হচ্ছে। অথচ খেজুরগুলো পঁচা ও নষ্ট। তার পরও নতুন প্যাকেটের গায়ে এগুলোর মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে আগামী দুই বছর পর্যন্ত। অর্থাৎ নষ্ট ও পঁচা খেজুর নতুন মোড়কে ক্রেতাদের কাছে যাচ্ছিল দুই বছরের মেয়াদ নিয়ে। এ অপরাধে মৌসুমী ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানও করা হয় ।একই অপরাধে মনির এন্টারপ্রাইজ নামের আরো একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। গত মাসের ৩১ তারিখে বাদামতলীর একটি প্রতিষ্ঠান থেকেই ৪১২ মণ নষ্ট খেজুর উদ্ধার করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এক মাস ধরে মোবাইল কোর্টে বিভিন্ন অভিযানে নষ্ট খেজুর ধরা পড়েছে যার সবই নতুন নতুন মোড়কে। র্অথাৎ বোঝার কোনো উপায়ই নেই যে এগুলো নুষ্ঠ বা পঁচা। ফলে রমজান মাস যতই এগিয়ে আসছে ভোক্তাদের মধ্যে ততই শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কারণ এই এক মাসেই ৩৫ হাজার টন বা তারও বেশি খেজুর সাধারণ মানুষ খায়। বেশির ভাগ মানুষই চেষ্টা করে ইফতারে খেজুর রাখতে এবং এটি ইফতাররে একটি বড় উপাদন।
পুষ্টিবিদরা মনে করেন, সারা দিনের রোজার পর কেউ যদি খেজুর দিয়ে ইফতার করে তবে দ্রুত শরীরে ,শক্তি সঞ্চালন হয়, যাকে বলা হয় ইনস্ট্যান্ট এনার্জি। অন্য কোনো খাবার থেকে এত দ্রুত শক্তি পাওয়া সম্ভব হয় না, যত দ্রুত খেজুরের পুষ্টি শরীরে মিশে যায়। কিন্তু পবিত্র এই মাস ঘিরেও কিছু অসাধুব্যবসায়ী মানুষ ঠকানোর পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন এরই মধ্যে অনেক নষ্ট, পঁচা ও ময়োদোর্ত্তীণ খেজুর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যেগুলো আর ধরার কোনো সুযোগই নেই। এতে করে সাধারণ মানুষ রোজায় খেজুর খাওয়ার ব্যাপারে আতঙ্কে আছেন। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মতে বাজারে যেসব খেজুর বিক্রি হচ্ছে সেগুলো নষ্ট না ভালো তা বোঝার কোনো উপায় নেই।
জানা গেছে বাংলাদেশে ৬০-১৫০ টাকা কেজি দরে মাঝারি মানের খেজুর বিক্রি করে আমদানকারকরা। সেগুলো খুচরা বাজারে গিয়ে হয়ে যাচ্ছে ৪০০-৮০০ টাকা। আর সর্বোচ্চ ভালো মানের যে খেজুর আমদানি হয়েছে সেগুলো পাইকারদের কাছে বিক্রি হয়েছে বা হচ্ছে ৪০০-৬০০ টাকা কেজি দরে। সাধারণ মানুষের দাবী অবিলম্বে রমজান মাসে ব্যাপকভাবে ভেজাল বিরোধী অভিজান জালানো হোক।
এম, হাবিল, বাংলা টিভি ঢাকা।



