জনদুর্ভোগবাংলাদেশ

ঈদে ট্রেন যাত্রায় শুরুতেই ভোগান্তি

 

গ্রামের বাড়ি গিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য আজ  সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য যারা ট্রেনের আজকের অগ্রিম টিকেট কিনেছিলেন তাদের বেশ ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে। রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন থেকে অনেকগুলো ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। যাত্রীদেরকে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বা হচ্ছে। তবে দুটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে।

সকালে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি যাত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, যাত্রীরা নিরাপদে ও আনন্দে বাড়ি যাচ্ছে। তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

তবে সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে জানা যায়, আজ সকাল ৬টায় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে রাজশাহী যাওয়ার কথা ছিল ‘ধুমকেতু এক্সপ্রেস’। সেটি সকাল পৌনে ৮টায় স্টেশনের সাত নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে, পরে আড়াই ঘণ্টা দেরিতে সকাল সাড়ে ৮টায় ছেড়ে যায়। ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ ছেড়ে গেছে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে।

তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রংপুরগামী যাত্রীরা। ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির কমলাপুর ছেড়ে যাওয়ার কথা সকাল ৯টায়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেই ট্রেনটি দুপুর ২টা ১০ মিনিটে স্টেশনে আসবে। অর্থাৎ পাঁচ ঘণ্টা দেরির ফেরে পেড়েছেন উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা। তাদেরকে স্টেশনে পরিবার-পরিজন নিয়ে এই গরমের মধ্যে কষ্ট করতে হচ্ছে।

তবে সঠিক সময়ে ছেড়ে গেছে পঞ্চগড়গামী ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’সহ আরো একটি ট্রেন। কিন্তু ‘নীলফামারি এক্সপ্রেস’ সকাল সাড়ে ৮টায় কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছার কথা থাকলেও সেটি সাড়ে ৯টা পর্যন্ত স্টেশনে আসেনি।

এদিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পরিদর্শনে আসা রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম মজিদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এবার যাত্রীদের বড় ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। আনন্দ নিয়ে নিরাপদে ও সাশ্রয়ীভাবে মানুষ বাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছে। আমি অনেক যাত্রীদের সঙ্গেই কথা বলেছি। তাঁরা বলেছেন, তাঁরা সন্তোষ্ট। যাত্রীদের দাবি, রেল আরো গতিময় হোক।’

ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিয়ে আমরা পরে কথা বলবো।  দুটি ট্রেন ইনটাইম ছেড়ে গেছে। যে ট্রেনগুলোর দেরি হচ্ছে, সেটি যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

‘রংপুর এক্সপ্রেসে’র দেরি হওয়ার ব্যাপারে রেলপথমন্ত্রী বলেন, ‘এটি যাত্রীরা অবগত আছেন। পরে অতিরিক্ত ট্রেন দিয়ে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।’

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button