জনদুর্ভোগদেশবাংলা

দেশের বিভিন্ন জেলায় আবারো বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

 

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলায় আবারো বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ত্রাণ সংকটে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছেন বন্যাকবলিত মানুষ। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র,ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধরলার ২৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যার পানি  নেমে যেতে না যেতেই নতুন করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বানভাসীরা। তলিয়ে গেছে প্রায় ২০হাজার হেক্টর জমির ফসল। এসব এলাকায় দেখা দিচ্ছে পানিবাহিত রোগ। বন্যা কবলিতদের জন্য চাল, শুকনো খাবার ও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানালেন স্থানীয়রা।

লালমনিরহাটের তিস্তা ও ধরলার পানি বেড়ে গিয়ে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদ সীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খুলে দেয়া হয়েছে দেশের সর্ব বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের  ৪৪টি জলকপাট। পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে নতুন করে বন্যার আশংকায় রয়েছেন, নদী তীরবর্তী মানুষ।

যমুনার পানি কিছুটা কমে গেলেও জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি ১১সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং গো খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। আর সড়কের বেহাল দশা এখন দৃশ্যমান।

শেরপুরের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি এবং মৃগী নদীর পানি কিছুটা কমে বাড়ী-ঘর থেকে পানি নামতে শুরু করলেও এখনো প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। তাদের দিন কাটছে দুর্ভোগের মধ্যে। বন্যাদূর্গত অনেকস্থানে পৌঁছায়নি সরকারি ত্রান। এদিকে জেলায় রোপা আমনের বীজতলা, সবজি,আউশ আবাদ,পাট ও ফলবাগান নষ্ট হয়ে প্রায় ৩০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ৪২টি ইউনিয়নের ২শ ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া জেলায় পানিতে ডুবে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরসিরতা কোনাপাড়ায় ব্র‏হ্মপুত্র নদের প্রায় ৫০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। সকালে বাঁধ ভেঙে উজান থেকে প্রবল বেগে নেমে আসা পানি প্রবেশ করছে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। এতে কোনাপাড়াসহ বিস্তীর্ণএলাকা তলিয়ে গেছে।ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুটি। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এ কে এম গালিভ খাঁন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উজান থেকে নেমে আসা পানি ও দু’দিনের প্রবল বৃষ্টিপাতে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি পুনঃরায় বৃদ্ধি পেয়েছে।ফলে যেসব এলাকা থেকে পানি সরে গিয়েছিল সেসব এলাকাসহ নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।দ্বিতীয় দফায় বন্যায় মানুষের আরো বেশী দূর্ভোগ বেড়েছে।সুন্দরগঞ্জ,সাঘাটা,ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে।এসব এলাকায় খাদ্য সংকট,বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং পয়:নিষ্কাশন সমস্যা প্রকট আকার ধারন করেছে।

বাংলাটিভি/শহীদ

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button