এবার কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেন এস কে সিনহা

এবার কানাডায় ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ চেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তার স্ত্রী সুষমা সিনহাও একই আবেদন করেছেন। কানাডার টরেন্টো থেকে প্রকাশিত ‘দ্য কানাডিয়ান কুরিয়ার’ এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ জুলাই সিনহা দম্পতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় গিয়ে শরণার্থীর মর্যাদা চেয়েছেন। এর আগে বিচারপতি সিনহা যুক্তরাষ্ট্রেও রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন। তবে সেই আবেদনে সাড়া মেলেনি। এবার নতুন করে তিনি কানাডায় আশ্রয় চাইলেন। দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার জানিয়েছে, রাজনীতিক-আমলা-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বাংলাদেশে তাকে ‘টার্গেট’ বানানো হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে তিনি আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন। তবে কানাডার বাংলাদেশ হাই কমিশন সিনহার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, আশ্রয় পাওয়ার স্বার্থে বহুদিন থেকেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে আসছেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে সরকার ও সিনহার বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। সরকারের একাধিক মন্ত্রী তার অপসারণ চেয়ে বক্তব্য দেন। সরকারের সঙ্গে বিরোধের জেরের এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের অক্টোবরে তিনি ছুটিতে যান। প্রথমে সিঙ্গাপুর হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান। পরে সেখান থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পরে বিদেশ থেকেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।
তিনি বিদেশ যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ পাওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তবে সরকারের তরফ থেকে তখন বলা হয়েছিল, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা দুদক দেখবে। দেড় গত ১০ জুলাই ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি এবং চার কোটি টাকা আত্মসাতে জড়িত থাকার অভিযোগে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসা সিনহা গতবছর যুক্তরাষ্ট্রে বসে একটি বই প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি দাবি করেন, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে, এ কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।
বাংলাটিভি/ রিয়েল



