ক্রিকেটবাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়

 

দেশের ক্রিকেটে যখন ঘনকালো মেঘ,ঠিক তখনই সবাইকে অবাক করে টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে মাটিতে নামিয়ে আনলো বাংলাদেশ। নানা সঙ্কটে কয়েক সপ্তাহ আগেও যে ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, সেই সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটের মাইলফলক জয়টি ছিনিয়ে আনলো টাইগাররা।  দিল্লীতে প্রথম জয়টি ধরা দিলো এমন এক সময়ে যখন দলে নেই সাকিব, তামিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুজন খেলোয়াড়। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে এটা বাংলাদেশের প্রথম জয়।  তাও আবার এই ফরম্যাটের হাজারতম ম্যাচের মাইলফলকের দিনে।

দিল্লীর বাতাসে চরম দুষণ, আর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল নিয়ে নানা দুর্যোগের মধ্যেও সিরিজের প্রথম টি- টোয়েন্টিতে টাইগাররা থামিয়ে দিলো অনেক সমালোচনা। জয়ের কৃতিত্ব পুরো দলের।  যারা মানসিক চাপ সামলে ঝলসে উঠেছেন।  খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের চেয়ে এগিয়ে জয় আনবে সফরকারীরা- এমনটা হয়তো কারো ভাবনাতেই ছিল না।

ভারতের দেয়া ১৪৯ রানের টার্গেটে, লাল-সবুজদের আনন্দে মাতালেন যিনি, তিনি মি: ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম।  দিল্লীর দূষণ-কালো রাতের অন্ধকার ছাপিয়ে, তার ব্যাট যেন ঝলসে ওঠে এক টুকরো বাংলাদেশ হয়ে! ম্যাচের ১৯তম ওভারে ১৮ রান তুলে নিলে, শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি যে টাইগাররাই জিতে নিচ্ছে- সেটা বুঝতে কারোই আর অসুবিধা হয় না।  আহত বাঘ যে কতটা ভয়ঙ্কর, ভারতকে তা বুঝিয়ে দিল টাইগাররা।

নিজের ৩৯ রানে, মুশফিকের সাথে তৃতীয় উইকেট-জুটিতে ৬০ রান যোগ করেন সৌম্য সরকার।  অভিষিক্ত মোহাম্মদ নাঈমও মেধার ঝলক রাখেন ২৬ রানের ইনিংসে।

এরআগে নাম বদলে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম হবার পর প্রথম ম্যাচটিতে কখনোই প্রাণখুলে হাসতে পারেনি স্বাগতিক সমর্থকরা।  টস হার থেকে শুরু।  ব্যাটিংয়েও স্বস্তি দেননি বাংলাদেশের আট বোলার। একের পর এক বোলিং পরিবর্তনে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের অস্থির করে রেখেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ দুই ওভারে ৩০ রান না দিলে শতভাগ কর্তৃত্ব থাকতো বাংলাদেশের।  তারপরও এমন জয়ে খুব বেশি উচ্ছাস হয়নি।  সমর্থকদের মত আনন্দের বাড়াবাড়িও করেননি ক্রিকেটাররা।  সব আনন্দ-উল্লাস মনের গহীনেই রেখে দেন! যেন প্রথম জয়ই যে শেষ জয় নয়!

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button