অন্যান্যবাংলাদেশ

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কবির বাসায় প্রধানমন্ত্রী

একুশে পদকজয়ী কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার ধানমন্ডির বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৬ নভেম্বর দুপুরে প্রায় আধাঘণ্টা কবির বাসায় উপস্থিত থেকে তিনি কবির বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন।

এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, দেশ ও জাতি একজন বহুমুখী গুণের অধিকারী দেশপ্রেমিক বরেণ্য ব্যক্তিকে হারালো। তিনি একাধারে স্থপতি, কবি, শিল্প-সমালোচক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিকর্মী ছিলেন। পেশা স্থাপত্যশিল্প হলেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষক রবিউল হুসাইন স্বীয় কর্মের মাধ্যমে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

এরআগে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

বিএসএমএমইউ’র কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারিছুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রবিউল হুসাইন এ প্লাস্টিক এনিমিয়াতে ভুগছিলেন। এটি এক ধরনের ‘বোন ক্যানসার’। এতে করে শরীরে রক্ত উৎপাদন হয় না। তার রক্ত কমে যাচ্ছিল। গেল ১৬ নভেম্বর রবিউল হুসাইন বিএসএমএমইউতে ভর্তি হন।

এর আগে তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। রবিউল হুসাইন ১৯৪৩ সালে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় জন্মগ্রহণ করেন। ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৮ সালে একুশে পদক পাওয়া এই কবি কাজ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের জন্যও।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্রের ট্রাস্টি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার উল্লেখযোগ্য বই হলো- ‘কী আছে এই অন্ধকারের গভীরে’, ‘আরও ঊনত্রিশটি চাঁদ’, ‘স্থিরবিন্দুর মোহন সংকট’, ‘কর্পূরের ডানাঅলা পাখি’, ‘আমগ্ন কাটাকুটি খেলা’, ‘বিষুবরেখা’, ‘দুর্দান্ত’, ‘অমনিবাস’, ‘কবিতাপুঞ্জ’, ‘স্বপ্নের সাহসী মানুষেরা’, ‘যে নদী রাত্রির’, ‘এইসব নীল অপমান’, ‘অপ্রয়োজনীয় প্রবন্ধ’, ‘দুরন্ত কিশোর’, ‘বাংলাদেশের স্থাপত্য সংস্কৃতি’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘গল্পগাথা’, ‘ছড়িয়ে দিলাম ছড়াগুলি’ ইত্যাদি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close