অন্যান্যবাংলাদেশ

বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ৪৯ তম বিজয় দিবস উদযাপন

৪৮ বছর আগে কুয়াশার চাদরে মোড়া এমনি এক দিনে বাংলার আকাশে উঠেছিল বিজয়ের লাল সূর্য। সেই আলোয় যখন একটু একটু করে জেগেছিল পুরো বিশ্ব, ততক্ষণে ইতিহাসের পাতায় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি লিখেছে বিজয়ের করুণ ইতিহাস।

আজ ১৬ই ডিসেম্বর ৭১ এর বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ৪৯ তম বিজয় দিবস উদযাপন করছে বাঙালী জাতি। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় লাখো শহীদকে স্মরণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ। সেইসঙ্গে শপথ নেয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অশুভ শক্তিকে পরাজিত করার।

এর আগে বিজয় দিবসে সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল সাড়ে ৬টার পর প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুন সুর। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার দেন। এ সময় এক মিনিট নীরবতা পালন করে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান। পরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

২৫ শে মার্চ রাতে যে রক্ত ঝরেছিল তাতে ফুটেছিল স্বাধীনতার কলি। আর সেই কলিকে বিজয়ের কুসুমে পরিণত করেছিল লাখো শহীদের এক সাগর রক্ত। বিজয়ের দিনে শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে বীর বাঙালি নতুন করে শপথ নিল ৭১ এর পরাজিত সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দিয়ে লাল সবুজের সোনার বাংলা গড়ার।

সন্তানহারা মায়ের নিরব অশ্রু আর রক্তের অক্ষরে লেখা বিজয়ের পতাকা ছিনিয়ে এনে যারা দিয়েছিল স্বাধীনতার সুবাতাস সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ঘুম ভাঙাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাবনত বাঙালি জাতি। কেউ কেউ আবার বললেন, লাখো শহীদের প্রাণ আর ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেলেও বিজয়ের এত বছর পরও কাঙ্খিত মুক্তি অনেকক্ষেত্রেই অধরা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close