অন্যান্যবাংলাদেশ

শহীদ আসাদ দিবস মুক্তি সংগ্রামে তাৎপর্যপূর্ণ দিন

আজ শহীদ আসাদ দিবস। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৬৯ সালের উত্তাল গণ-আন্দোলনের এ দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

মূলত আসাদের মৃত্যুর পরই বেগবান হয় আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলন। সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারা বাংলার রাজপথে। সংঘটিত হয় উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, পতন ঘটে আইয়ুব খানের।

আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নাম। ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদীর শিবপুরে জন্ম নেয়া আসাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালেই জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। ১৯৬৯ সালে তিনি পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা হল শাখার সভাপতি এবং ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

এ সময়, ক্রমশঃই বেগবান হতে থাকে ছাত্র সমাজের ১১ দফা আন্দোলন। আর তা দমাতে, শুরু হয় স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের দমনপীড়ন। ঊনসত্তুরের ২০ জানুয়ারি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ডাকা হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে হাজারো ছাত্রের মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে অগ্রসর হয়। পুলিশ- ইপিআর বারবার চেষ্টা করেও শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় আসাদকে।

আসাদের মৃত্যুর পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্র-জনতা। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আসাদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে বের হয় বিশাল মিছিল। যা পরবর্তীতে রূপ নেয় গণ অভ্যুত্থানে, পতন হয় আইয়ুব খানের।

স্বদেশ মুক্ত করার লড়াইয়ে আসাদকে সাহসী পথপ্রদর্শক বলে উল্লেখ করে, দলীয় সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে, রাষ্ট্রীয়ভাবে আসাদের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করা উচিত বলে মনে করেন ইতিহাসবিদরা।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি, ঢাকা

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close