দেশবাংলা

বসন্তের হাতছানি সুনামগঞ্জের শিমুল বনে

প্রতি বছরের মত এবারও বসন্তের শুরুতেই প্রকৃতি প্রেমীদের হাতছানি দিচ্ছে ভারতের মেঘালয় পাহাড় ও যাদুকাটা নদীর তীরে গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তর জয়নাল আবেদিন শিমুল বাগানটি। কলিতে ভরে গেছে সারি সারি সাজানো শিমুল গাছের ডালগুলো। সবুজের আবৃত্ত ভেদ করে কিছু কিছু গাছের ডালে ফুটতে শুরু করেছে রক্তলাল শিমুল ফুল।

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থান মানিগাওঁ গ্রাম সংলগ্ন শিমুল বাগানটির অবস্থান।

জানা যায়, ২০০২ সালে বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত জয়নাল আবেদীন উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে ৯৮বিঘা অনাবাদী জমি ক্রয় করে বানিজ্যিক ভাবেই এই শিমুল বাগান তৈরির পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি এবাগানে সারিবদ্ধ ভাবে ৩ হাজারের বেশি শিমুল চারা রোপন করা হয়।

     shimul bagan

এই ১৮ বছরের ব্যবধানে সেদিনের শিমুল চারাগুলোর ডালপালা পুষ্প পল্লবে এক অতুলনীয় দৃষ্টিনন্দন বাগানে পরিণত হয়েছে। বাগানে ফ্রেরুয়ারির শুরুর দিকে পুরোদমে শিমুল ফুল ফুটতে শুরু করে। আর মাঘের শেষ দিক থেকে ফাগুন মাস পর্যন্ত শিমুল বাগানে রক্তিম আভা এই বাগানের মূল আকর্ষণ।

সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে অল্প সংখক পর্যটক ও দশনার্থীরা আসছেন এই শিমুল বাগানে। এছাড়াও শীত, বর্ষায় সব সময় শিমুল বাগানের সৌর্ন্দয উপভোগ করতে দল বেঁধে ছুটে আসে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা। ফলে হাওর, পাহাড় নদী ও শিমুল বাগানের সৌন্দর্য সব মিলেমিশে মানিগাঁও গ্রামটি হয়ে ওঠেছে প্রকৃতির এক অপরূপ লীলাভূমি। শুধু তাই নয় এই বাগানে বিভিন্ন ছবি, নাটক ও গানের মিউজিক ভিডিওর শুটিং করা হয় এখানে।

ফলে সম্প্রতি বাগানে আগত পর্যটকদের জন্য বাগান মালিকদের পক্ষ থেকে একটি খাবার হোটেল নির্মাণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য করা হয়েছে বসার ব্যবস্থা। এতে করে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা উপকৃত হচ্ছে বলে জানালেন, বাগান মালিকপক্ষ।

         01 132

শিমুল বাগানের প্রতিষ্টাতা জয়নাল আবেদিনের ছেলে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আপ্তব উদ্দিন বলেন, আমার বাবা একজন বৃক্ষপ্রেমী ছিলেন। তিনিই যাদুকাটা নদীর তীরে এই শিমুল বাগান তৈরি করেন। বাবা নেই, আছে তারেই রেখে যাওয়া এক অনবদ্য সৃষ্টি। যার জন্য এখনও সবাই আমার বাবার কথা মনে করছেন।

তিনি আরো বলেন, এই বাগানটিকে ঘিরে পর্যটকদের জন্য পারিবারিকভাবে জেলায় একটি আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট করারও চেষ্টা চলছে।

যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সরাসারি বাসে সুনামগঞ্জ যাবেন। সুনামগঞ্জের আব্দুল জহুর সেতু থেকে সিএনজি বা মটর সাইকেলে করে যাবেন লাউড়েরগড় বাজার। লাউড়েরগড় বাজার পার হতেই যাদুকাটা নদী। আর এ নদী পার হলেই পৌঁছে যাবেন অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত শিমুল বাগানে। এতে জন প্রতি একশত টাকার মতো খরচ হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button