
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর মাতৃভাষা মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় সংযুক্ত না করায়, মাতৃভাষার চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আদিবাসীরা। তাদের মাতৃভাষা চর্চা এখন অনেকটাই মৌখিক কথায় নির্ভর হয়ে পড়েছে।
জেলার বেশিরভাগ আদিবাসী জনগোষ্ঠির শিশুরা মাতৃভাষা পড়তে ও লিখতে পারে না। এতে আদিবাসী গ্রাম ও চা বাগান গুলোতে নিজেদের মাতৃভাষা হারিয়ে যেতে বসেছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা উপজেলায় খাসি, গারো, মনিপুরি, ত্রিপুরা, মুন্ডা, ওরাঁং সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় ৫ লাখ মানুষের বসবাস। নিজস্ব ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি থাকলেও, বাংলা ভাষা শিখতে গিয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে তাদের মাতৃভাষা।
বিশেষ করে বিপাকে পড়তে হচ্ছে শিশুদের। তাই শিক্ষার্থীদের দাবি বাংলার ভাষার পাশাপাশি যেন তাদের মাতৃভাষাকে সমান গুরুত্ব দেয়া হয়। ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়।
তারপর প্রাক প্রাথমিক পর্যায়ে চাকমা, মারমা, ককবোরক, মান্দি ও সাদরি ভাষার পাঠ্যপুস্তক তৈরি, শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ আনুসাঙ্গিক প্রক্রিয়া শুরু করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। কিন্তু গত আট বছরেও সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায়, মাতৃভাষা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আদিবাসীরা।
শ্রীমঙ্গলের সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে একটি বৃহৎ আকারে প্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের ভাষার বই ও অন্য সবকিছু থাকবে। এ জন্য এরই মধ্যে একটি জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানালেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।
বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ ও বইপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য, রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন এর দাবি জানান, সিলেট আদিবাসী ফোরামের নেতা সুচিয়াং।
বাংলা ভাষার পাশাপাশি মৌলভীবাজারের প্রতিটি উপজেলায় বাসবাসরত প্রত্যেক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠির মাতৃভাষায় পাক প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি আদিবাসীদের।
বিক্রমজিত, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি



