দেশবাংলা

অধরাই রয়ে গেলো ফাতেমা হত্যা রহস্য

গাইবান্ধায় মুক্তিযোদ্ধার কিশোরী কন্যা ফাতেমার হত্যা রহস্য অধরাই রয়ে গেলো। শশুড় বাড়ির লোকজন নির্যাতন করে তাকে হত্যা করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলেও, গত ৩ মাসেও হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ সুপার বলছেন, তদন্ত চলছে, হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

‘মা-বাবা আমাকে নিয়ে যাও, আমি পরীক্ষা দেব, ওরা আমাকে পরীক্ষা দিতে দেবে না। আমাকে তিন বেলা খেতেও দিচ্ছে না, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ পরিবারের সাথে এটিই ছিল ফাতেমার শেষ কথা। পরদিন মেলে তার মরদেহ।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দূর্গম দীঘলকান্দি চর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদের কিশোরী মেয়ে ফাতেমা আক্তার। মুক্তিযোদ্ধা বাবার স্বপ্ন ছিলো মেয়েকে আইনজীবী বানাবে। চলতি এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহন করার কথা ছিল তার। সেটি আর হয়নি।

প্রেমের ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক বিয়ে করে একই গ্রামের আব্দুল মমিন। বিয়ের মাত্র দেড় মাস যেতেই শুরু হয় নির্যাতন। পড়াশোনা করে মানুষ হতে চায়, এটিই ছিলো ফাতেমার অপরাধ। অমানবিক নির্যাতনের খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে ফিরিয়ে আনতে গেলেও, তার স্বামী তাকে ছাড়েনি।

গেল ১২ নভেম্বর শশুড় বাড়ি থেকে ফাতেমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হলে, গেল ৩ মাসেও কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পরই শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। ফাতেমাকে হত্যা করে আত্নহত্যার নামে চালানোর অপরাধে, তাদের শাস্তি দাবি করেছেন, এলাকাবাসী।

এদিকে, পুলিশ সুপার মো: তৌহিদুল ইসলাম জানান, মামলাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মুল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

ফাতেমা হত্যা রহস্য এখন পুলিশের হাতে। সুষ্ঠু তদন্তপুর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভূক্তভোগীসহ, সুধী সমাজের।

জাহিদ খন্দকার, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close