দেশবাংলা

নবীনগরে আশংকাজনকহারে বাড়ছে অপরাধ কর্মকান্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আশংকাজনকহারে বাড়ছে অপরাধ কর্মকান্ড। সম্প্রতি খুন-ধর্ষণ ও সংঘর্ষের এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এসব ঘটনায় মামলা হলেও, উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় বীরদর্পে চলাফেরা করছে তারা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে, অপরাধ প্রবনতা  মহামারী আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন, স্থানীয়রা।

২০২০ সালের ১ম দিনে পাওনা ১ হাজার টাকা চাইতে গিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে খুন হয়, নবীনগর উপজেলার ভোলাচং গ্রামের সানি নামে এক যুবক। কেক খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে গেল ৮ জানুয়ারী কলেজ পাড়ায় ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে অটোচালক সোহেল।

২২ জানুয়ারী চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াগ্রামে আসমা বেগমকে অমানবিক নির্যাতন করেন, স্থানীয় প্রভাবশালীরা। গেল ১১ ফেব্রুয়ারী বাইশমৌজার গরুর বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হাজির হাটি গ্রামে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩০টি ঘরবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

১৪ ফেব্রুয়ারী পৌর এলাকার পশ্চিমপাড়া বাজারে টাকা চেয়ে না পাওয়ায়, প্রকাশ্যে পিতাকে কুঁপিয়ে হত্যা করে তার ছেলে শুভ। এ ঘটনার কয়েকঘন্টার মধ্যে শুভকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সবশেষ গেল ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার সলিমগঞ্জে জান্নাতুল ফেরদাউস মহিলা মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আমেনা আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মাদ্রাসা অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফাসহ, ৪ শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। এসব ঘটনায় মামলা হলেও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর কারণে, আতংক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

এসব অপরাধ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হলে অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে বলে মনে করেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। যেকোন অপরাধ দমনে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানান, নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রনোজিত রায়।

দিনের পর দিন খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মত ঘটনা ঘটলেও, তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি না হওয়ায় তা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে অপরাধের মাত্রা কমবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

পিয়াল হাসান, নবীনগর প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close