জনদুর্ভোগবাংলাদেশ

বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ মোকাবিলায় রোল মডেল

বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ বাংলাদেশ। শুধু প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্ট দুর্যোগেও দেশটির অবস্থান সামনের সারিতে। তবে গত দশ বছরে দুর্যোগ মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে উপকূলীয় দুর্যোগে প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতি কমিয়ে আনতে বিশেষ সাফল্য পেয়েছে সরকার।

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বিবেচনা করে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে এখন দুর্যোগ মোকাবিলায় রোল মডেল বলা হয়।

১৯৭০ সালে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ সাইক্লোনের আঘাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের পরও, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সে সময় দুর্গত এলাকায় উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি- সিপিপি গঠন করেছিলেন। মানুষের জানমাল রক্ষায় নির্মাণ করেন ১৭২টি আশ্রয়কেন্দ্র, সাধারণ মানুষের কাছে যা মুজিব কিল্লা নামে পরিচিতি পায়। বঙ্গবন্ধুর সেই কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী জনসম্পৃক্ত দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচিগুলোর মধ্যে প্রথম উদ্যোগ।

পরে, বাংলাদেশে একে দুর্যোগ মোকাবিলায় ফ্লাগশিপ কর্মসূচি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। ফলে মানুষের মৃত্যুহার ও সম্পদের ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯ নম্বরে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ শাহ কামাল জানান, বঙ্গবন্ধুর গঠিত সিপিপি স্বেচ্ছাসেবীদের নিবেদিত প্রচেষ্টাসহ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে গেছে। তিনি বলেন, দুর্যোগ-ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অবকাঠামো নির্মাণসহ- সার্বিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ মোকাবিলার আন্তর্জাতিক রোল মডেল।

দুর্যোগ-পূর্বাভাস প্রদানের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উদ্ভাবন এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. মাকসুদ কামাল।

যেকোনো দুর্যোগে মানুষের মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় আনার পাশাপাশি, আর্থিক ক্ষতি কমানোই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলেও মনে করেন তারা।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close