বাংলাদেশমুজিববর্ষ

সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় কৃষিখাতের উন্নয়নে উদ্যোগ নেন বঙ্গবন্ধু

এক সময়ে বাংলাদেশে কিছু নির্দিষ্ট এলাকা ও অঞ্চলেই সবজির চাষাবাদ হতো। অথচ বর্তমানে দেশের সব এলাকায় সারা বছরেই চাষ হচ্ছে সবজির। সারা দেশে এখন ৬০ ধরনের ও ২০০ জাতের সবজি উৎপাদিত হচ্ছে।

 জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবজি উৎপাদনে এখন বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ, আলু উৎপাদনে সপ্তম। সবজি রপ্তানিতে নীরব বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশে।

স্বাধীনতার পরপরই সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় কৃষিখাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ, উন্নত বীজ, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর গৃহীত কৃষিনীতির পথ ধরেই  গত কয়েক বছরে রীতিমতো সবজি বিপ্লব ঘটেছে দেশে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা- এফএও’র সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। বৃহৎ রাষ্ট্র চীন এবং ভারতের পরই সবজি উৎপাদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম।

এফএও বলছে, গত দেড় যুগে বাংলাদেশে সবজি উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ। এক দশক আগেও যেখানে দেশে আলুর উৎপাদন ছিল অর্ধ লাখ টনের নিচে। এখন তা কোটি টন ছাড়িয়েছে।

এ সাফল্য বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে আলু উৎপাদনকারী শীর্ষ দশ দেশের কাতারে। এফএও’র তথ্য অনুয়ায়ী, আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। একইসঙ্গে দেশের চাহিদা মিটি‌য়ে আলু রপ্তানিও হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকারের যুগোপযোগী পরিকল্পনা, কৃষকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং বৈজ্ঞানিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলেই কৃষিতে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর নেয়া বিভিন্ন উদ্যেগ ও দিক নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কৃষি গবেষক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়াও মনে করেন, কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর নেয়া বিভিন্ন উদ্যেগ ও পরবর্তীতে তার যথাযথ বাস্তবায়নের ফলেই কৃষিখাতে আজকের উলম্ফন। তার মতে এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে কৃষিখাতে সরকারের দেয়া প্রণোদনার পাশাপাশি, বিজ্ঞানীদের নতুন জাত উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সহজলভ্যতা।

দেশের সীমানা পেরিয়ে এখন বিশ্ববাজারে যাচ্ছে বাংলাদেশের সবজি। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের সবজি রপ্তানি হয়েছে।

অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় দেশকে এগিয়ে নিতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের ওপর সরকারকে এখন গুরুত্ব দিতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

বাংলা টিভি/হাকিম

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button