দেশবাংলা

ইলিশ আনতে স্পেশাল ট্রেন!

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জন্য ‘পয়লা বৈশাখের ইলিশ’ আনতে একটি স্পেশাল ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর গিয়েছিলো বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২৫ কেজি ইলিশ মাছ আনতে ট্রেনে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ২৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীও ছিল বলে জানা গেছে।

ওই  ট্রেনে থাকা একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তাসহ জিআরপি, আরএনবিসহ মোট ২৫ রেল কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন স্পেশাল ট্রেনটিতে। বেতন, পেনশনের টাকা দিতে গিয়েছি। সকালে ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে প্রথমে ফেনী স্টেশন মাস্টারকে টাকা দেয়। এরপর লাঙ্গলকোট হয়ে লাকসাম গিয়ে লাকসামের স্টেশন মাস্টারকে টাকা দেওয়া হয়।

তবে রেলওয়ের বাণিজ্যিক ও পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রেলমন্ত্রীর নির্দেশে ১৩ এপ্রিল বিভিন্ন স্টেশনে জরুরি ভিত্তিতে কিছু বেতন ও রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ভাতা দিতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন একটি স্পেশাল ট্রেন ছেড়ে যায়।

আরো জানা যায়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ মেনে ট্রেনটি চাঁদপুর নিয়ে যান চালক বখতিয়ার। পথিমধ্যে লাকসাম স্টেশন থেকে চাঁদপুরের টাকাও নেয়া হয়। ট্রেন চাঁদপুরে পৌঁছে সেখানকার স্টেশনে গিয়ে স্টেশন মাস্টারকে টাকাগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ট্রেনটি দাঁড়িয়ে থাকে। এ সময় চাঁদপুর স্টেশনের টিটিই মহিউদ্দীন এসে বলেন ট্রেন এখন যাবে না।

এই ট্রেনে করে ডিআরএম স্যারের ইলিশ মাছ যাবে। গাড়ি কিছুক্ষণ থামান। এরপর বৈশাখী ইলিশ মাছ তোলার জন্য চাঁদপুর স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট গাড়ি অপেক্ষায় থাকে। এরপর টিটিই মহিউদ্দিন ২৫ কেজির মতো ইলিশ মাছ ইঞ্জিন রুমে তুলে দিলে চাঁদপুর স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে ট্রেনটি। তখন রাত সাড়ে ৯টা। পরবর্তীতে পুনরায় লাকসাম হয়ে ট্রেনটি রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম পৌঁছায়।

এদিকে শুধু ইলিশ মাছ আনতে সরকারি তেল অপচয় করে ২৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর হয়রানি ও সময় অপচয় করায় ট্রেনে থাকা প্রায় সবাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।—দেশ রূপান্তর, আমাদের সময়.কম

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close