আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যে পরীক্ষামূলকভাবে মানবদেহে প্রতিষেধক প্রয়োগ

করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ২৭ লাখের কাছাকাছি। মোট মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার। তবে, সুস্থ হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে দ্রুত।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে পরীক্ষামূলকভাবে মানবদেহে প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হয়েছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আশাবাদ, আগামী একমাসের মধ্যেই ভাইরাসটির প্রতিষেধক পাওয়া যাবে। করোনায় আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যায় শীর্ষস্থানে যথারীতি যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৫০ হাজার মানুষ। সাড়ে আট লাখের ওপরে আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছে মাত্র ৮৬ হাজারের কাছাকাছি মানুষ।

স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স আছে পরের অবস্থানগুলোতে। প্রথম দেশ হিসেবে জার্মানিতে সুস্থ হয়েছে এক লাখেরও বেশি মানুষ। ইতালিতে ২৪ ঘন্টায় প্রাণহানি ৪৬৪ জন, স্পেনে ৪৪০, ফ্রান্সে ৫১৬, যুক্তরাজ্যে আবারো বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৮জন।

এদিকে, কিছুটা শান্ত হওয়া চীনের অবস্থা আবারো ভয়ংকর হয়ে উঠছে। প্রায় চার মাসের লড়াইয়ে করোনাকে নিয়ন্ত্রণে আনে দেশটি। নতুন করে ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ার পর উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় হারবিন শহর লকডাউন করা হয়েছে। শহরটিতে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস। শহরের কর্তৃপক্ষ জানায়, বাইরে থেকে আসা ব্যক্তির মাধ্যমে নতুন করে সেখানে করোনার সংক্রমণ হয়েছে।

এদিকে, গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে উৎপত্তি হওয়া করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক নিয়ে কাজ শুরু করে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনার ইনস্টিটিউট ও অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ। বেশ খানিকটা সময় পেরোলেও সফলতার ‍মুখ দেখতে শুরু করেছেন গবেষকরা।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের একদল গবেষক সিএইচএডিওএক্স ওয়ান এনকোভ-১৯ নামের প্রতিষেধক তৈরি করেছেন। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের তৈরি এটিই প্রথম প্রতিষেধক। মোট ৮০০ মানুষ এই পরীক্ষামূলক কাজে স্বেচ্ছায় অংশ নিয়েছেন। যার মধ্যে অর্ধেককে কভিড-১৯ এর প্রতিষেধক দেয়া হবে। আর বাকি অর্ধেককে ম্যানিনজাইটিস প্রতিরোধক দেয়া হবে।

তবে কার শরীরে কোন প্রতিষেধক দেয়া হবে, তা শুধু জানবেন চিকিৎসকরাই। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনাভাইরাসের পরীক্ষামূলক প্রতিষেধক প্রয়োগ করেন। এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ সফল হলে বড় ধরনের এক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে গোটা বিশ্ব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বেশ আশাবাদী এই ভ্যাকসিন নিয়ে। সংস্থার প্রধানের প্রত্যাশা, আগামী একমাসের মধ্যেই প্রতিষেধক পেয়ে যাবেন তারা।

বাংলা টিভি/রাসেল

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close