বাংলাদেশ

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: করোনা থাবায় গভীর সংকটে পোশাকশিল্প

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সাত বছর আজ। তবে এতটা সময় পেরিয়ে গেলেও নিষ্পত্তি হয়নি এ দুর্ঘটনা সংক্রান্ত একটি মামলারও বিচারকাজ। অন্যদিকে করোনার প্রভাবে আরো গভীর এক সংকটের পথে দেশের তৈরি পোশাক খাত। আর এসব সংকট মোকাবেলায় বাজার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনের পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। ওইদিন সকালে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা। কর্মরত অবস্থায় নিভে যায় হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিকের প্রাণপ্রদীপ। পরে ক্রেতাদের চাপ আর নিজেদের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ান পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৭ বছরে দেশের তৈরি পোশাক খাতে বদলেছে অনেক কিছুই, উন্নত হয়েছে কারখানার পরিবেশ এবং এর ফলশ্রুতিতে একসময় ঘুরে দাঁড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য।

কিন্তু এবার সময়টা ভিন্ন। আবারো বড় সংকটের আভাস। রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ এখন বড্ড নিস্তব্ধ। করোনা থাবায় থেমেছে সব কোলাহল। বছর ঘুরলেই শ্রমিকের যে আর্তনাদে ভারি হত বাতাস, নেই তার কোনকিছুই। সাক্ষী হয়ে আছে শুধু নিশ্চুপ এ স্তম্ভ আর স্মৃতিগুলো। বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ–সিপিডির আয়োজনে ‘কোভিড-১৯: সংকটের মুখে শ্রমিক ও মালিক -সরকারি উদ্যোগ ও করণীয়’ বিষয়ক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় পোশাকখাতের সংকট মোকাবেলায় উঠে আসে বিভিন্ন পরামর্শ।

এ সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে শ্রমিক, মালিক ও সরকার এই তিন পক্ষকেই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা, তবে হতাশার বিষয়; এতটা সময় পার হওয়ার পরও নিষ্পত্তি হয়নি এ দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলাগুলো। অন্যদিকে, করোনার প্রভাবে আরো গভীর সংকটে এ খাত। বিশ্লেষকদের মতে, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সবার মাঝে যে সমন্বয় ছিল তেমনটা চোখে পড়ছে না নতুন এ সংকটে।

বৈশ্বিক এ মন্দায় পোশাক খাতের কার্যাদেশগুলো যাতে অন্য দেশগুলোতে চলে না যায় সেক্ষেত্রে উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের দরকষাকষি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আপাতত এ সংকট কাটিয়ে ওঠতে সব পক্ষকে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close