কান্তজিউ মন্দিরের জমিতে মসজিদ নির্মাণে গুণীজনের উদ্বেগ

দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরের জায়গায় মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগে নিয়েছে স্থানীয় কিছু মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কান্তনগর গ্রামে রাজ দেবোত্তর এস্টেটের জমিতে এই স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় গেল ১লা মার্চ মসজিদ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে রাজ দেবোত্তর এস্টেটের কাছ থেকে কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কাজ বন্ধসহ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ১৭ গুণীজন। তারা হলেন, হাসান ইমাম, অনুপম সেন, সারওয়ার আলী, রামেন্দু মজুমদার, আবেদ খান, ফেরদৌসী মজুমদার, মামুনুর রশীদ, মফিদুল হক, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবীর, কেরামত মওলা, মিলনকান্তি দে, লাকী ইনাম, সারা যাকের, শিমূল ইউসুফ, গোলাম কুদ্দুছ। এ ধরনের ঘটনা প্রতিহতে প্রশাসন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুপ্রাচীন মন্দিরটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়েছে,কান্তজিউ মন্দির যে শিল্পীদের হাতে বিস্ময়কর চিত্রকলার সৃষ্টি হয়েছিল এবং যারা প্রকৌশলী ও শ্রমিক হিসাবে মন্দির নির্মাণ করেছিলেন তাদের সিংহভাগ মুসলিম সম্প্রদায়ের। মন্দিরের অনতিদূরে নয়াবাদে মন্দির নির্মাণ শ্রমিকদের নামাজের সুবিধার জন্য মহারাজা প্রাণনাথ রায়ের অর্থায়নে নয়াবাদ মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। অনিন্দ্য সুন্দর সেই মসজিদও একটি পুরিকীর্তি। কান্তজিউ মন্দির নির্মাণকারী প্রকৌশলী ও শ্রমিকরাই এ মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।
মন্দির ও মসজিদ নির্মাণ করেছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা। সম্প্রীতির এমন নিদর্শন পৃথিবীতে বিরল। এই সম্প্রতির উদাহরণ বিশ্ব ইতিহাসে আমাদের দেশকে করেছিল মহান। সেই মহত্বের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এ জাতি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়,সভ্যতার এ অনুপম নিদর্শন বাংলাদেশের গৌরব। এ প্রন্ততাত্ত্বিক নিদর্শন মানব সভ্যতার স্মারক। এ গৌরবের স্মারক কোনোভাবেই হুমকির মুখে ফেলা যাবেনা।
বাংলা টিভি / বুলবুল



