Uncategorized

কেউ একটু হেসে কথা বললেই ‘প্রেমে পড়েছে’ ধরে নেওয়া কী ঠিক

বাংলা টিভি ডেস্ক: কেউ একটু হাসিমুখে কথা বলল, খোঁজখবর নিল বা বাড়তি মনোযোগ দিলেই অনেকেই ধরে নেন—নিশ্চয়ই সে প্রেমে পড়েছে। তবে মনোবিজ্ঞান বলছে, সব আন্তরিক আচরণের পেছনে প্রেম কাজ করে না; অনেক সময় তা কেবল ভদ্রতা, বন্ধুত্ব কিংবা সামাজিক সৌজন্য।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এ ধরনের ভুল ধারণার চরম রূপকে বলা হয় ‘ইরোটোম্যানিয়া’। এটি এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে কেউ তাকে গোপনে ভালোবাসে, যদিও বাস্তবে তার কোনো ভিত্তি থাকে না।

বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র বা সামাজিক পরিসরে একসঙ্গে সময় কাটানো, নিয়মিত কথা বলা কিংবা বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ থেকে অনেক সময় কেউ ভুলভাবে ধরে নেন যে অপরপক্ষ তার প্রতি বিশেষ অনুভূতি পোষণ করে। অথচ বাস্তবে তা হতে পারে নিছক সৌজন্য বা পেশাগত সম্পর্কের অংশ।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, একাকিত্ব, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, আবেগগত শূন্যতা বা কল্পনা ও বাস্তবতার সীমারেখা দুর্বল হয়ে গেলে এমন বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এ প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে। কারও অনলাইন উপস্থিতি, নিয়মিত রিঅ্যাক্ট বা বারবার দেখা হওয়াকেও অনেকে প্রেমের ইঙ্গিত হিসেবে ধরে নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কারও প্রতি আকর্ষণ বা ভালো লাগা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বাস্তবতা পরিষ্কার হওয়ার পরও যদি কেউ নিজের বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে থাকেন, তখন সেটি মানসিক সমস্যার দিকে যেতে পারে। এ অবস্থায় বারবার যোগাযোগের চেষ্টা, অনুসরণ বা অস্বস্তিকর আচরণও দেখা দিতে পারে।

তাই শুধু হাসি, সৌজন্য বা বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণকে প্রেম হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সম্পর্কের সীমারেখা বুঝতে পারাই মানসিক পরিপক্বতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button