রাজনীতি

মধ্যরাতে পরকীয়া প্রেমিকার ঘরে বিএনপি নেতা আটক, দল থেকে বহিষ্কার

বাংলা টিভি ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এক নারীর বাড়িতে অবস্থানকালে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বিএনপির এক স্থানীয় নেতা। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের সোনালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শফি সিকদার স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবিনা আক্তার নামের এক নারীর সঙ্গে শফি সিকদারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, শফি প্রায়ই ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন।

সোমবার রাতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাড়িটির আশপাশে নজরদারি করেন। রাতের এক পর্যায়ে শফি ওই বাড়িতে প্রবেশ করলে তারা তাকে এবং সাবিনাকে ঘরের ভেতর থেকে আটক করেন। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হন। উত্তেজিত জনতার একাংশ শফিকে মারধর করে বলে জানা যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে উভয়ের সম্মতিতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়। পরদিন উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে শফি সিকদারকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

ঘটনার সময় শফির প্রথম স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হন। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button