আইন-বিচারআওয়ামী লীগরাজনীতি

হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি: চিফ প্রসিকিউটর

বাংলা টিভি ডেস্ক: সাহস থাকলে দেশে এসে শেখ হাসিনার জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার মোকাবিলা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দিল্লি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে চাওয়ার ঘোষণা একটি রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি।

সোমবার (২৯ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ভারতের নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে চাওয়ার ঘোষণা রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। তার যদি সত্যিই সাহস থাকে, তাহলে দেশে এসে জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার মোকাবিলা করুক।

এর আগে রবিবার (২৮ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এ বছরই দেশে ফেরার কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট ২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান, আমির হোসেন আমু এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকসহ জুলাই হত্যাযজ্ঞের ১০টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। এই তদন্ত প্রতিবেদনগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) হিসেবে দাখিল করা হবে।

তিনি আরও বলেন, হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা, শুনানির তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাকে সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করবেন।

এদিকে , মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে বিশেষ হেলিকপ্টারে ভারতে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে দিল্লিতে রয়েছেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button