
বাংলা টিভি ডেস্ক: বয়স এখন ৩৯, কিন্তু পায়ের জাদু আর মাঠের নেতৃত্ব আগের মতোই ধারালো। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে লিওনেল মেসি প্রমাণ করলেন, কেন তাকে এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার বলা হয়। তার এই অসামান্য পারফরম্যান্সের পর প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইনও স্বীকার করলেন, মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পুরো ম্যাচ জুড়ে মেসি ছিলেন কৌশলী। যদিও ইংল্যান্ড ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে মেসির ক্ষিপ্রতা ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেয়। সতীর্থ এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাউতারো মার্তিনেজের দুটি গোলই এসেছে মেসির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন পরাজয়ের হতাশা সত্ত্বেও মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়। যখন তারা ফাইনাল থার্ডে (প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি এলাকা) বল পায়, তখন যেকোনো মুহূর্তে জাদু দেখাতে পারে। মেসি আজ আবার সেটাই করেছে। নিঃসন্দেহে সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। এর পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল বেশ সতর্ক। আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের লড়াই, ফাউল ও শারীরিক দ্বৈরথই ছিল বেশি চোখে পড়ার মতো। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতির পর ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে শেষ দিকে মেসির নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে তার বাড়ানো পাসে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রসে হেড করে লাউতারো মার্তিনেজ জয়সূচক গোল করেন।
এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের ভুলে ম্যাচ হারার হতাশায় কেইন বলছিলেন, শেষ মুহূর্তে তাদের মনোযোগে সামান্য বিচ্যুতিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মেসি আবারও নিশ্চিত করলেন—বয়স তার কাছে কেবল একটি সংখ্যা মাত্র, আর ফুটবল মাঠ এখনো তার একক সাম্রাজ্য।



